
কেরালায় কুম্ভ মেলায় ভাইরাল হওয়া এক তরুণীর বিয়েকে ঘিরে বড়সড় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, মেয়েটি আসলে নাবালিকা ছিল এবং ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহার করে তার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি এখন জাতীয় তফসিলি উপজাতি কমিশন (NCST)-এর তদন্তাধীন।
তদন্তে প্রকাশ, মেয়েটির জন্মতারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০০৯। সেই অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে বিয়ের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর ২ মাস। বিভিন্ন সরকারি নথি ও হাসপাতালের রেকর্ড যাচাই করে এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছে তদন্তকারীরা। ফলে স্পষ্ট হয়েছে, তাকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আরও জানা গেছে, মহেশ্বর পৌরসভা থেকে একটি ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করা হয়েছিল। সেই নথির ভিত্তিতেই কেরালার পুয়ার এলাকায় বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করা হয়। বর্তমানে ওই বিয়ে বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ তদন্ত করছে, এই ভুয়া নথি তৈরির পেছনে কারা জড়িত এবং এটি কোনও বড় চক্রের অংশ কি না।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত ফারমান খানের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন এবং অ্যাট্রোসিটি আইনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি মেয়েটিকে সিনেমায় সুযোগ ও বড় জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রলুব্ধ করেন এবং পরে কেরালায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গত তিন মাস ধরে অভিযুক্ত ও মেয়েটি বিভিন্ন ভিআইপি হোটেলে থাকছিল। এই বিষয়টি ঘটনাকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। কিছু রিপোর্টে বিদেশি ফান্ডিং ও নির্দিষ্ট সংগঠনের যোগ থাকার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এই দাবিগুলি এখনও প্রমাণিত হয়নি।
NCST জানিয়েছে, তারা পুরো ঘটনাটিকে শুধু বাল্যবিবাহ নয়, বরং সম্ভাব্য মানবপাচার ও সংগঠিত অপরাধের দিক থেকেও খতিয়ে দেখছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় মধ্যপ্রদেশ ও কেরালা পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে এবং নিয়মিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ভুয়া নথি তৈরি, স্থানীয় নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়েও তদন্ত চলছে। বিষয়টি এখন একাধিক রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে রয়েছে।
কুম্ভ ভাইরাল গার্ল মামলা এখন শুধু একটি বিয়েকে ঘিরে নয়, বরং ভুয়া নথি, নাবালিকা শোষণ এবং সম্ভাব্য চক্রের তদন্তে পরিণত হয়েছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
