
মহারাষ্ট্রের পুনেতে খেড এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় নিজের ছয় বছরের সন্তানকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক মহিলার বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যদিও ঘটনায় যুক্ত অপর এক ব্যক্তি এখনও পলাতক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বাসিরণ মেহবুব শেখ প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে করেছিলেন। তবে সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় তিনি আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর স্বামীর এক বন্ধুর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল তাঁর ছোট ছেলে আয়েজ।
অভিযোগ, সেই কারণেই শিশুটিকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ও তাঁর প্রেমিক। গত ৪ এপ্রিল গভীর রাতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। প্রথমে শিশুটির মাথা জলের বালতিতে চেপে ধরা হয়, এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে মেঝেতে আছাড় মারা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটির ভয়াবহতা দেখে শিউরে উঠছেন তদন্তকারীরাও।
ঘটনার পর অভিযুক্ত পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেন। সন্তানের দেহ নিয়ে তিনি নিজের বাপের বাড়িতে যান এবং পরিবারকে জানান, হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে শিশুটির। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ আরও গভীর হয় এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ময়নাতদন্তে খুনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত বাসিরণকে গ্রেফতার করা হয়। তবে এই ঘটনায় যুক্ত রাম বিনায়ক কাজেওয়াড় নামে অপর অভিযুক্ত এখনও পলাতক এবং তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, শিশুটি অভিযুক্তদের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় পরিকল্পিতভাবে এই খুন করা হয়েছে।
এই ঘটনা সমাজে আবারও প্রশ্ন তুলেছে, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। একইসঙ্গে শিশুর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
