
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি। ইসলামাবাদে হওয়া এই ম্যারাথন বৈঠকের পর কোনও চুক্তিতে পৌঁছতে না পারায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, বৈঠকে আমেরিকা তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল। কিন্তু ইরান সেই শর্ত মানতে রাজি হয়নি। তাঁর কথায়, “আমরা আমাদের ‘রেড লাইন’ পরিষ্কার করেছি, কোথায় সমঝোতা সম্ভব এবং কোথায় নয়—সবই জানিয়েছি। তবুও কোনও চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি।”
অন্যদিকে, পাল্টা সুর চড়িয়েছে ইরান। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আমেরিকার দাবিগুলি ‘অযৌক্তিক’ হওয়ায় আলোচনা এগোয়নি। তাদের দাবি, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্যই তারা কোনও আপস করতে রাজি হয়নি। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকও জানিয়েছে, একটি বৈঠকে এত বড় সমস্যার সমাধান হওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
সবচেয়ে বড় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ এই হরমুজ নিয়ে দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তারা কোনওভাবেই ছাড়বে না। অন্যদিকে আমেরিকা চাইছে সেখানে ইরানের প্রভাব কমাতে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ খুলতেই হবে এবং সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বিশ্ব বাণিজ্যে, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহন এই পথ দিয়ে হয়। ফলে কোনও সংঘাত বা অবরোধ তৈরি হলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
তবে সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে আবারও আলোচনায় বসতে পারে দুই দেশ। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে বৈঠকের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, দুই পক্ষ ফের আলোচনায় বসে কোনও সমাধান সূত্র খুঁজে পায় কি না, নাকি সংঘাত আরও বাড়ে।
