
ভোপাল-এর বহুল বিতর্কিত ৯০ ডিগ্রির রেলসেতু অবশেষে নতুনভাবে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনার মুখে থাকা এই সেতুটি তৈরি হলেও নিরাপত্তা সমস্যার কারণে এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া যায়নি। এবার নতুন নকশা অনুযায়ী পুনর্নির্মাণের পর সেটি চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন।
প্রায় ১০ মাস ধরে সেতুটি ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পূর্ত দফতর ও রেল কর্তৃপক্ষ একমত হয়েছে যে বর্তমান নকশায় সমস্যা রয়েছে, তাই সেটি সংশোধন করেই কাজ এগোতে হবে। সেই অনুযায়ী খুব শীঘ্রই নতুন করে নকশা তৈরির কাজ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
এই সেতুটি তৈরি করা হয়েছিল মহামই কা বাগ এবং পুষ্পনগর এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার জন্য। নিউ ভোপাল স্টেশনের কাছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটি তৈরি হওয়ার পরই বিতর্ক শুরু হয়। কারণ, সেতুটির বাঁক ছিল প্রায় ৯০ ডিগ্রি, যা যান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিযোগ ওঠে।
উদ্বোধনের আগেই কয়েকটি গাড়ি ওই তীব্র বাঁক অতিক্রম করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে হস্তক্ষেপ করেন মোহন যাদব। তিনি এই নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত আট জন ইঞ্জিনিয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেতুর বাঁকের ব্যাসার্ধ ২ মিটার থেকে বাড়িয়ে প্রায় আড়াই মিটার করা হবে, যাতে গাড়ি সহজে ঘুরতে পারে। পাশাপাশি সেতুর প্রস্থও বর্তমান সাড়ে ৮ মিটার থেকে বাড়িয়ে ১০.৫ থেকে ১১ মিটার করা হবে। এতে ছোট গাড়ির পাশাপাশি মাঝারি ও ভারী যানবাহনও নিরাপদে চলাচল করতে পারবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রশাসনের দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে সেতুটি আর ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে না এবং দ্রুত সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। তবে যে সংস্থা প্রথমে সেতুটি নির্মাণ করেছিল, তারাই নতুন নকশা অনুযায়ী পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব পাবে।
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে নির্মাণকাজের মান ও পরিকল্পনা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্পে আরও সতর্কতা ও প্রযুক্তিগত নির্ভুলতা নিশ্চিত করা জরুরি।
