
কলকাতা: ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল অভিনেত্রী ও প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ Nusrat Jahan-কে ঘিরে। ইডির তলবে বুধবার সকালে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হলেন তিনি। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁর পৌঁছনোর খবর মিলেছে। সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা Yash Dasgupta। তদন্তকারী সংস্থার ডাকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্রও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন নুসরত, এমনটাই জানা যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, ২০২০ সালের একটি ফ্ল্যাট প্রতারণা মামলার তদন্তেই নুসরত জাহানকে তলব করা হয়েছে। অভিযোগ, বসিরহাটের ঘোজাডাঙা সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ রেশনের গম পাচারের চেষ্টা হয়েছিল। প্রায় ১৭৫টি ট্রাকে করে সেই গম বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মামলা রুজু হয় এবং সম্প্রতি তদন্তভার হাতে নেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
ঘটনাক্রমে, সেই সময় বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন নুসরত জাহান। তদন্তকারীদের হাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র আসার পরই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও প্রথমে নুসরত দিল্লির ইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। ফলে তাঁকে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সেই উপস্থিত হতে বলা হয়।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, আজকের জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে পারেন নুসরত। বিশেষ করে ওই সময়কার প্রশাসনিক ভূমিকা, সীমান্ত দিয়ে গম পাচারের বিষয়ে তাঁর কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ তথ্য ছিল কি না, সেই বিষয়গুলোই খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া তাঁর সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার নাম উঠে আসে কি না, সেটাও তদন্তকারীদের নজরে থাকবে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন মহিলা আধিকারিক, তদন্তকারী অফিসার এবং এক জন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর উপস্থিত থাকবেন। পুরো জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া শেষে নুসরতের বয়ান রেকর্ড করা হবে। সেই বয়ানের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে ইডি।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্বাচনের আবহে এমন একটি ঘটনায় চাপ বাড়তে পারে শাসকদলের উপর বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, ইডির জিজ্ঞাসাবাদে ঠিক কী তথ্য উঠে আসে এবং তা আগামী দিনে কী প্রভাব ফেলে রাজ্যের রাজনীতিতে।
