
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জগদ্দলে রবিবার গভীর রাতে তৃণমূল ও বিজেপি দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক অশান্তির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম কৌশিক দাস, সিকান্দার প্রসাদ, গোপাল রাউত এবং শ্যামদেব শাহ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এরা সকলেই জগদ্দল থানা এলাকার প্রীতিনগরের বাসিন্দা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। ওই রিপোর্টে উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জানিয়েছেন, রবিবার রাত আনুমানিক ১১টা নাগাদ এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার এবং জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রের এক বিজেপি প্রার্থী থানায় একটি এফআইআর দায়ের করতে যান। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিরোধী প্রার্থীর সমর্থকরা জানতে পেরে জগদ্দল থানার সামনে প্রায় ২০০ জনের একটি জমায়েত তৈরি হয়। এরপরই উত্তেজিত জনতা বেআইনিভাবে থানার চত্বরের ভেতরে প্রবেশ করে। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন অন্য এক বিজেপি প্রার্থী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁকে ঘিরে থাকা সমর্থকদের সহায়তায় দুই প্রার্থীকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে দাবি পুলিশের।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এরপরই একদল উত্তেজিত জনতা পাথর, বিস্ফোরক এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে স্থানীয় এক প্রার্থীর বাসভবনে হামলা চালায়। হামলার সময় ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। একই সঙ্গে সেখানে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্মীদের উপরও আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় এক CISF কনস্টেবল আহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং ব্যারাকপুরের ডেপুটি কমিশনারের নেতৃত্বে একাধিক জায়গায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও অনেকে এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে।
পুরো ঘটনার পর এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
