
হুগলি: দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগের রাতেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সিঙ্গুর। গভীর রাতে সিঙ্গুর থানার সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন দলের প্রার্থী Becharam Manna। থানার গেটের সামনে বসে অবস্থান বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁদের। মূল দাবি ছিল, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডলকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বেচারাম মান্নার অভিযোগ, সোমবার রাত থেকেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বেছে বেছে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে এবং অনেককে আটক করে থানায় নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, তাঁদেরও হয়রানি করা হচ্ছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।
বিক্ষোভস্থল থেকে তিনি বলেন, “বিজেপিকে জেতানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করা হচ্ছে। আমাদের কর্মীদের ভয় দেখিয়ে ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। যতক্ষণ না আমাদের অঞ্চল সভাপতিকে ছাড়া হচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকায় এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান বিক্ষোভ চলার পর অবশেষে রাতে শ্যামাপদ মণ্ডলকে ছেড়ে দেওয়া হলে বিক্ষোভ তুলে নেন বেচারাম ও তাঁর সমর্থকরা।
অন্যদিকে, একই রাতে সিঙ্গুরের বুড়িগ্রাম এলাকায় এক তৃণমূল কর্মী সনৎ কুমার ধারার উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ তাঁকে বাড়ির সামনে বসে থাকার সময় জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরে বেধড়ক মারধর করে। আহত কর্মীর দাবি, তিনি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ না থাকায় বাড়ির বাইরে বসেছিলেন, কিন্তু তাতেই তাঁকে মারধরের শিকার হতে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর হাতে একাধিক সেলাই পড়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে আহত কর্মীর সঙ্গে দেখা করেন বেচারাম মান্না।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিরোধী শিবিরের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে ভোটে প্রভাব ফেলতে চাইছে।
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে সিঙ্গুরে এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
