
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটে মঙ্গলবার সকালে ভবানীপুরে তৈরি হল তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। সকাল থেকেই নিজের কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথে টহল দিচ্ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ই প্রায় একই এলাকায় উপস্থিত হন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী, ফলে কার্যত মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয় দুই হেভিওয়েট নেতার মধ্যে।
তবে সরাসরি কোনো সাক্ষাৎ বা সৌজন্য বিনিময় হয়নি তাঁদের মধ্যে। এরপরই সংবাদমাধ্যমের সামনে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও বুথে ঘুরে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন এবং তাঁর সঙ্গে লোকজন ও “গুন্ডা” উপস্থিত রয়েছে।
শুভেন্দু আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মস্তানি করতে দেব না।” তাঁর অভিযোগ, শাসকদল ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে এবং ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জনসমর্থন কমছে বলেই তিনি অস্থির হয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে, সকাল থেকেই ভবানীপুরের বিভিন্ন বুথ ঘুরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে আসা কিছু আধিকারিক বিজেপির ইঙ্গিতে কাজ করছেন এবং রাজ্যে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
মমতার অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং বেছে বেছে টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে পরিকল্পিতভাবে।
এই দুই রাজনৈতিক শিবিরের পাল্টা অভিযোগে ভবানীপুরে ভোটের উত্তাপ আরও বেড়ে যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনী এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর ভোটে ভবানীপুর কার্যত দুই রাজনৈতিক শিবিরের শক্তি পরীক্ষার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তেই বাড়ছে উত্তেজনা ও নজরদারি।
