
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আবহে বিধানসভার অন্দরে শুরু হয়ে গেল বড়সড় প্রস্তুতি। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই বিধানসভার বিভিন্ন মন্ত্রীদের ঘর থেকে সরিয়ে ফেলা হল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। পাশাপাশি স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ এবং ডেপুটি চিফ হুইপের ঘর আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এই নির্দেশ কার্যকর থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, নতুন সরকার গঠনের আগে বিধানসভা চত্বরের একাধিক অংশে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। কোথাও শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সমস্যা, কোথাও বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি— সব কিছু দ্রুত মেরামতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোটা বিধানসভা ভবনে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
শুধু মূল ভবন নয়, বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়েও তৎপরতা বেড়েছে। পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা বারবার পরিদর্শনে গিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন। সূত্রের দাবি, ওই অ্যানেক্স ভবনেই তৈরি হতে পারে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। ফলে সেখানে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও জোরকদমে চলছে।
বিধানসভা চত্বরে বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তাও। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের করিডরের সামনে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ প্রহরা। কে কোথায় প্রবেশ করছেন, তার উপরও রাখা হচ্ছে কড়া নজর।
প্রসঙ্গত, আর মাত্র দু’দিন পরেই নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মধ্যে রাজ্যপাল আর এন রবি ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর দফার (খ) উপধারা অনুযায়ী পুরনো বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত এই পরিবর্তনের প্রস্তুতি থেকেই স্পষ্ট, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে কোনও রকম ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন। অন্যদিকে বিধানসভা চত্বরে মমতার ছবি সরানো নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা।
