
নির্বাচনের মূল গণনার আগেই পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মীদের পোস্টাল ব্যালট ভোটে বড় অংশই শাসক দলের বিপক্ষে গেছে। মোট ভোটের ৮০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে বিরোধীদের দিকে ঝোঁক দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রাথমিক গণনায় দেখা যাচ্ছে, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রেই বিজেপি এগিয়ে রয়েছে পোস্টাল ব্যালটের নিরিখে। বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় ব্যবধান স্পষ্টভাবে নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের।
রাসবিহারী, যাদবপুর, বিধাননগর, ব্যারাকপুর, কামারহাটি, দিনহাটা সহ একাধিক কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটে বিজেপির প্রার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি ভোট পেয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে কিছু কেন্দ্রে ব্যবধান বেশ বড়, যা শাসক শিবিরের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
তবে সব জায়গায় একই চিত্র নয়। ভবানীপুর কেন্দ্রে চমকপ্রদ ফল দেখা গেছে। সেখানে শাসক দলের প্রধান প্রার্থী পোস্টাল ব্যালটে বিরোধী প্রার্থীর থেকে ৯টি ভোট বেশি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে একদিকে যেমন বিরোধীদের বাড়তি সুবিধা মিলছে, অন্যদিকে কিছু কেন্দ্রে শাসক শিবিরও নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পোস্টাল ব্যালট সাধারণত সরকারি কর্মীদের মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। সেই দিক থেকে এই ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে প্রশাসনিক স্তরে অসন্তোষ রয়েছে, বিশেষ করে বেতন, ডিএ সহ একাধিক ইস্যুতে ক্ষোভ জমে থাকতে পারে।
একাধিক কেন্দ্রের অঙ্ক বলছে, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো প্রার্থীরা পোস্টাল ব্যালটে উল্লেখযোগ্য লিড পেয়েছেন। অন্যদিকে কিছু কেন্দ্রে কংগ্রেস ও সিপিএম প্রার্থীরাও নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট ধরে রেখেছেন, যদিও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘুরছে শাসক বনাম বিরোধী শিবিরের মধ্যেই।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, পোস্টাল ব্যালটের এই ফলাফল পুরো নির্বাচনের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ না করলেও এটি একটি বড় সিগন্যাল। কারণ, সরকারি কর্মীদের ভোট সাধারণত প্রশাসনিক মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।
এখন নজর মূল গণনার দিকে। পোস্টাল ব্যালটের এই অঙ্ক কি শেষ পর্যন্ত বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে, নাকি মূল ভোটে চিত্র বদলে যাবে, সেই প্রশ্নেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
