
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমনাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন লেখা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি মন্দিরের ইতিহাস, পুনর্নির্মাণের সংগ্রাম এবং ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছেন। আগামী ১১ মে তাঁর সোমনাথ সফরের আগে এই লেখা প্রকাশ ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
মোদী তাঁর লেখায় উল্লেখ করেছেন, সোমনাথ কেবল একটি মন্দির নয়, বরং ভারতের সভ্যতার “ধ্বংস থেকে পুনর্জাগরণ”-এর প্রতীক। তিনি লিখেছেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আক্রমণ, ধ্বংস ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও এই মন্দির ভারতের আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবে টিকে আছে।
তিনি স্মরণ করেছেন ২০০১ সালের একটি মুহূর্ত, যখন তিনি সদ্য গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সোমনাথ পুনর্নির্মাণের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল। সেই সময় অটল বিহারী বাজপেয়ী ও এল. কে. আদভানির উপস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
লেখায় আরও উঠে এসেছে সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা, যিনি স্বাধীনতার পর ভগ্নপ্রায় সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন। যদিও তাঁর জীবদ্দশায় কাজ সম্পূর্ণ হয়নি, পরে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় এবং ১৯৫১ সালে মন্দির পুনরায় উদ্বোধন হয়।
মোদী লিখেছেন, সোমনাথ শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, এটি ভারতের ঐক্য, সংস্কৃতি ও প্রতিরোধের প্রতীক। সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মন্দিরের সম্পর্ককে তিনি তুলনা করেছেন সময়ের অবিরাম প্রবাহের সঙ্গে—যেখানে প্রতিটি আঘাতের পরও ভারতীয় সভ্যতা আবার উঠে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন ভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ও শাসকদের অবদান, যারা বিভিন্ন সময়ে এই মন্দিরকে পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছেন। অহল্যাবাই হোলকর থেকে শুরু করে গুজরাটের বিভিন্ন রাজবংশ—সবার অবদানকে তিনি স্মরণ করেছেন।
লেখায় “বিকাশ ভি, বিরাসত ভি” নীতির কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, আধুনিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
শেষে মোদী দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন সোমনাথ মন্দির দর্শনে যাওয়ার জন্য। তাঁর মতে, সেখানে দাঁড়ালে শুধু ভক্তি নয়, ভারতের অদম্য আত্মার প্রতিফলনও অনুভব করা যায়।
এই লেখাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই নানা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেউ একে আধ্যাত্মিক বার্তা বলছেন, আবার কেউ একে সাংস্কৃতিক রাজনীতির অংশ হিসেবে দেখছেন।
