আজ বুধবার মহা কুম্ভ মেলায় মৌনী অমাবস্যার প্রধান স্নান। বিপুল সংখ্যক মানুষ দূর দুরন্ত থেকে এসেছেন মহা কুম্ভে স্নান করে পূণ্য অর্জন করতে। আর তাতেই ঘটে গেল বিপত্তি। জন জোহরের মাঝে পদদলিত হয়ে মৃত্যু হল ১৫ জনের। এর আগে মঙ্গলবার রাতে সঙ্গম শহরে ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে, প্রচুর সংখ্যক মানুষকে পদদলিত হতে হয়। ইতিমধ্যেই ১৫ জনের মৃত্যুর খবর সরকারের তরফ থেকে নিশ্চিত করা হলেও ৫৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেখানে উপস্থিত অ্যাম্বুলেন্সে আহতদের মহাকুম্ভ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত ২টার দিকে সঙ্গম সৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে অমৃতস্নান বন্ধের জন্য আখড়া পরিষদের কাছে আবেদন জানিয়েছে মেলা প্রশাসন।
তথ্য অনুযায়ী, মেলা প্রশাসন আখড়া পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রপুরীর কাছে আখড়াগুলিতে অমৃতস্নান বন্ধের আবেদন জানানোর পর এই অমৃতস্নান আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সব আখড়া তাদের ক্যাম্পে ফিরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আখড়ার বিশেষ রুট দিয়ে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মহা কুম্ভে পদদলিত হওয়ার খবরে কুম্ভমেলা কর্তৃপক্ষের স্পেশাল অফিসার আকাঙ্ক্ষা রানা বলেন, “সঙ্গম স্থলে ব্যারিকেড ভেঙে পদদলিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মহা কুম্ভে। এই ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের ইতিমধ্যেই চিকিৎসা চলছে। একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।” আহতদের ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।
উল্লেখ্য, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ,মহাকুম্ভ স্নান উৎসব। সারা বিশ্ব থেকে ভক্তরা পবিত্র ত্রিবেণী সঙ্গমে বিশ্বাসের স্নান করতে হাজির হন। এই উৎসব শুরু হয় মকর সংক্রান্তিতে অমৃত স্নানের মাধ্যমে। ১৩ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এই মহা কুম্ভ। বেশ কিছু তিথি রয়েছে, এই তিথিগুলিতে স্নানকে অমৃত স্নান বলা হয়। শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং পাপক্ষয়ের উপায় হিসাবেও বিবেচিত হয় এই পূণ্য স্নান। কিন্তু তাতেই ঘটে গেল বিপত্তি। ইতিমধ্যেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারিভাবে হিসাবটা প্রায় ৫৫। আহত অনেক।
