সোনার দাম লাগাতার ঊর্ধ্বগামী, যার ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে গয়না কেনার জন্য ইএমআই সুবিধা চালুর দাবি তুলেছেন দেশের জুয়েলারি ও বুলিয়ন ব্যবসায়ীরা। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের কাছে তারা অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে মধ্যবিত্তরা সহজে সোনা কিনতে পারেন।
শুধু ইএমআই সুবিধাই নয়, স্বর্ণকারদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তহবিল বরাদ্দ এবং সোনার বাজারের জন্য একটি একক নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সোনার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সেবি, আরবিআই, ডিজিএফটি, অর্থ মন্ত্রক এবং বাণিজ্য মন্ত্রক একসঙ্গে, যা নীতিনির্ধারণে জটিলতা সৃষ্টি করছে।
ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA)-এর সভাপতি পৃথ্বীরাজ কোঠারি জানিয়েছেন, বুলিয়ন রিফাইনারদের মার্জিন মাত্র ০.৬৫ শতাংশ, যা অত্যন্ত কম। এই অবস্থায় সোনার ডোর (অশোধিত সোনা) আমদানির উপর শুল্ক কমানো হলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস-এর এমডি ও সিইও শুভঙ্কর সেন বলেন, “গয়না শিল্পের সঙ্গে দেশের বহু মানুষ জড়িত। এই খাত বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করে। তাই সরকারের উচিত সোনার কারিগরদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তহবিল বরাদ্দ করা, করের হার কমানো, এবং অর্থনীতিতে নগদ প্রবাহ বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো।”
পিএনজি জুয়েলার্সের চেয়ারম্যান সৌরভ গড়গিল মনে করেন, সোনা আমদানি শুল্ক কমালে এবং সোনা মনিটাইজেশন স্কিমকে শক্তিশালী করলে বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে এবং ক্রেতাদের চাহিদা বাড়বে।
বর্তমানে ভারতের মোট রফতানির ৫ শতাংশ আসে জুয়েলারি শিল্প থেকে। সৌরভ গড়গিল মনে করেন, সরকার যদি নীতিগত সহায়তা দেয়, তাহলে এই খাত আরও প্রসারিত হবে এবং রফতানি বাড়বে।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বাজেটে অর্থমন্ত্রী সোনার কাস্টম ডিউটি বাড়ানোর ঘোষণা করতে পারেন বলে জল্পনা চলছে। এমনটা হলে সোনা আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে, যা বাজারে আরও প্রভাব ফেলতে পারে।
