গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সম্প্রতি পাকিস্তানি গুপ্তচরেরা বাংলাদেশে এসে ভারতের সীমান্ত লাগোয়া উত্তরের ‘চিকেনস নেক’ সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশ করেছে। তাদের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের কিছু আধিকারিকও। হঠাৎ করে এই স্পর্শকাতর এলাকাটি ঘুরে দেখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
ভারতীয় সেনা প্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী এ বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্ব এবং বারবার পাক সেনা প্রধানদের সফরকে ইতিমধ্যেই সন্দেহের চোখে দেখছে ভারত। তার ওপর ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চলে পাক গোয়েন্দাদের উপস্থিতি আরও বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই প্রসঙ্গে উপেন্দ্র দ্বিবেদী স্পষ্ট জানান, আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। সময় এলে ভারতও আগ্রাসন দেখাতে পারে।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক মজবুত হতে শুরু করেছে। অতীতে যে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে হয়েছিল, আজ সেই পাকিস্তানের দিকেই নতুন করে বন্ধুত্বের হাত বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসান পাকিস্তান সফরে যান। পাল্টা বাংলাদেশেও আসছেন পাকিস্তানের সেনা ও গোয়েন্দা প্রধানরা। শুধু তাই নয়, তারা বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন।
ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে সম্প্রতি পাকিস্তানি গোয়েন্দারা বাংলাদেশের ‘চিকেনস নেক’ পরিদর্শন করেছে বলে খবর। এতে ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভারতীয় সেনা প্রধান এই বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তান যদি সীমান্ত এলাকায় কোনো অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করে, তবে ভারতও তার যথাযথ জবাব দেবে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান মানেই সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর। তারা যেন প্রতিবেশী দেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ না ঘটায়, সেটাই আমাদের ভাবনার বিষয়।
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা ভারতের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিশেষ করে, সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় পাক গোয়েন্দাদের উপস্থিতি ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
