জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতনের পরেই মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সখ্যতা বেড়েছে পাকিস্তানের। ভারতের সঙ্গে যোজন দূরত্ব তৈরি করা অন্তর্বর্তী সরকার এখন সম্ভবত আরও কাছে পেতে চাইছে চিনকেও।বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী চিনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে বিএনপিসহ আটটি রাজনৈতিক দলের নেতারা যাচ্ছেন চিনে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন দলকে সাহায্য করতেই বিএনপি-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশে করতে চাওয়া যেসব প্রকল্প হাসিনার আমলে অমীমাংসিত ছিল, সেগুলো সম্ভবত ফের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আলোচনায় আনতে চাইছে চিন।আসলে বাংলাদেশের শিক্ষা, রেলওয়ে, কৃষি, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পশুসম্পদ, মৎস্য, জাহাজভাঙা শিল্প, ইত্যাদি ক্ষেত্রে আর্থিক, কারিগরি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চিনা সহযোগিতা সব সময়ই চেয়েছে বাংলাদেশ।
জানুয়ারি মাসেই বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন চিনে দ্বিপক্ষীয় সফর শেষ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেশ কটি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।বিদেশ উপদেষ্টার এই চিন সফর নজর কেড়েছে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের। সফরের শেষে চিনের সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন জানান চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গভীরতা ও ব্যাপ্তি অনেক।আমরা সম্পর্কের সবদিক নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি। আলোচনায় বাণিজ্য, উন্নয়ন প্রকল্প, বিনিয়োগ প্রাধান্য পেয়েছে। রাজনৈতিক কিছু বিষয় আলোচনায় এসেছে।
গত কয়েক মাস ধরে শেখ হাসিনা-পরবর্তী দ্রুত নির্বাচন চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে বিএনপি সহ বিভিন্ন দল।এমন পরিস্থিতিতেই ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন দল ঘোষণা করতে চলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি।কাজেই ভবিষ্যতে ক্ষমতার অলিন্দে আসতে চলা মানুষ জনকেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে চিন।বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের যে পাঁচজন নেতা এই দলে যাচ্ছেন তাঁরা হলেন কায়সার কামাল, শহিদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, রাজিব আহসান ও নাছির উদ্দিন। বিএনপির পাশাপাশি অন্যান্য দলের যে আটজন নেতা যাচ্ছেন তাঁরা হলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়ক আবুল হাসান মো. শহিদুল ইসলাম, জাতীয় পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান এ জেড এম ফরিদুজ্জামান, জাতীয় ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন ও জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা।
Leave a comment
Leave a comment
