একবার বা দুবার নয়, বারবার। ফের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে ‘গভর্নর’ বলে সম্বোধন করলেন। জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা দীর্ঘ ফোনালাপের পর বুধবার (স্থানীয় সময়) ট্রাম্প তার সোশ্যাল ট্রুথ প্ল্যাটফর্মে লেখেন যে তিনি ‘গভর্নর জাস্টিন’কে বলেছেন যে তার ‘দুর্বল সীমান্ত নীতি’ই ওয়াশিংটন এবং অটোয়ার মধ্যে সম্পর্কের অবনতির কারণ। ট্রাম্প লিখেছেন, “যারা আগ্রহী, তাদের জন্য বলছি, আমি কানাডার গভর্নর জাস্টিন ট্রুডোকে বলেছি যে তিনি আমাদের সঙ্গে তাদের যে সমস্যা তৈরি করেছেন, তার মূল কারণ তাঁর দুর্বল সীমান্ত নীতি।যার ফলে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিল এবং অবৈধ অভিবাসীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢূকেছে। এই নীতি অনেক মানুষের মৃত্যুর জন্যই দায়ী।”
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প কয়েকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে কানাডার যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আসা উচিত এবং প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ৫১তম কানাডিয়ান রাজ্যের গভর্নর হতে পারেন। ওয়াশিংটন এবং অটোয়ার মধ্যে শুল্ক যুদ্ধের মধ্যেই, বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো প্রায় ৫০ মিনিট ফোনে কথা বলেন। জানা গেছে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এই ফোনে কথা বলার সময় ছিলেন।ট্রাম্প এবং ট্রুডো নিজেদের মধ্যে ফেন্টানাইল চোরাচালান এবং বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করেন।কানাডায় নির্বাচন নিয়েও কথা হয় দুজনের। তবে একটি সংবাদসুত্রের তরফে দাবি করা হয় যে ট্রাম্প এবং ট্রুডোর ফোনালাপ মাঝে মাঝেই “উত্তপ্ত” হয়ে ওঠে।
এদিকে, কানাডার বিদেশমন্ত্রী মেলানি জোলি বুধবার ট্রাম্পের কানাডাকে আমেরিকার ‘৫১তম রাজ্য’ বানানোর মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে তাঁরা একে খুব গুরুত্ব সহকারেই দেখছেন।সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোলি বলেন যে এটি আর মজার বিষয় নয়। আমরা অপমানিত। আমরা ক্ষুব্ধ। আমরা রাগান্বিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে জেতার পরই তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। সেই সময়ই ট্রুডোকে ‘গভর্নর’ বলে সম্বোধন করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আবহে এবার নিজের কড়া অবস্থানও জানিয়েছেন ট্রুডো। কানাডার মার্কিন প্রদেশ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রুডোর সাফ কথা – বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। পরে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, কানাডার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নরকেও নেই।
তবে শুধু কানাডা নয় ক্ষমতায় এসেই বিভিন্ন দেশ বা অঞ্চল দখলের স্বপ্ন দেখছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইতিমধ্যে ‘গালফ অফ মেক্সিকো’ বা মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে তা ‘গালফ অফ আমেরিকা’ রেখেছেন।যেমন মিত্র রাষ্ট্র ইজরায়েল ও অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে গাজা নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন তিনি।অন্যদিকে সামরিক পদক্ষেপে পানামা খাল এবং গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণেরও হুমকি দিয়েছেন। গ্রিনল্যান্ড দখল আমেরিকার জন্য ‘অবশ্য প্রয়োজনীয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা করতে চাইলেও তবে তাঁরা মার্কিনি হতে চান না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মুট এগেডে। কিন্তু প্রশ্ন হল সম্প্রসারণবাদী ট্রাম্পকে কী এভাবে ঠেকানো সম্ভব? ইতিহাসই তার উত্তর দেবে।
