ইউক্রেন সংঘাত অবসানের পথে নতুন মোড়। মস্কো সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বল্পমেয়াদি সংঘাতবিরতিতে রাজি হতে পারেন, তবে এতে কঠোর শর্ত যুক্ত হতে পারে। ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, গত মাসে মার্কিন ও রুশ প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এই সমঝোতা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। যুদ্ধের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত পূর্ব ইউরোপে কি তবে অবশেষে শান্তির ইঙ্গিত মিলছে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইউক্রেনকে কূটনৈতিক পথে সমাধান খোঁজার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তার বক্তব্য, সংঘাত বাড়িয়ে না নিয়ে বরং আলোচনার মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো উচিত। কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি শান্তি চাইলেও দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করবেন না। তার দাবি, পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরও সক্রিয় হতে হবে। অন্যদিকে, রাশিয়াও যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহ দেখালেও নিজেদের শর্ত মানাতে চাইবে, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাম্পের রাশিয়া নীতি বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কখনও তিনি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার পক্ষে কথা বলেছেন, আবার কখনও পুতিনের প্রশংসায় মেতেছেন। হোয়াইট হাউসে এক বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি পুতিনকে বিশ্বাস করেন এবং মনে করেন, রুশ প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ থামাতে আগ্রহী। এমনকি, ট্রাম্পের মতে, ইউক্রেনের তুলনায় রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি করা তার কাছে বেশি সুবিধাজনক। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, তবে তারা শান্তিরক্ষার জন্য একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের শর্ত দিতে পারে। তবে এই বাহিনীতে কোন দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে, সে বিষয়ে মস্কো এখনও নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান স্পষ্ট করেনি।
ট্রাম্পের এই নীতি ইউক্রেন তো বটেই, ইউরোপের বেশ কয়েকটি মিত্রদেশের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের ভূমিকা ইউক্রেনকে রাশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তিতে বাধ্য করতে পারে, যা ইউরোপের অধিকাংশ দেশ মেনে নিতে চাইবে না। ইতিমধ্যেই ইউক্রেন-আমেরিকা কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ওভাল অফিসে জ়েলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডার পর ইউরোপের দেশগুলো ইউক্রেনের প্রতি আরও দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে।
আগামী মঙ্গলবার সৌদি আরবে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চলেছেন ইউক্রেনের কূটনীতিকরা। ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি শাসকের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট জ়েলেনস্কি সরাসরি এই আলোচনায় অংশ নেবেন না, তার প্রতিনিধি দল সেখানে উপস্থিত থাকবে। সব দিক বিবেচনায়, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ভবিষ্যৎ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস মিলছে।
Leave a comment
Leave a comment
