কলমে সুচিত্ত চৌধুরী
বর্তমান বিশ্বে নারীরা নিজেদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার প্রমাণ দিচ্ছেন, কিন্তু সমান সুযোগ ও ন্যায়ের দাবিতে লড়াই এখনো শেষ হয়নি। লিঙ্গবৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক অসাম্য কাটিয়ে উঠতে হলে সমাজকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, যেন প্রত্যেক নারী নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারেন।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস শুধু উদযাপনের জন্য নয়, বরং যুগ যুগ ধরে নারীদের সমতা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে স্মরণ করার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।সমাজের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে নারীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন, তাদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই চালিয়ে গেছেন। এই বিশেষ দিনটি সেই নিরবিচার সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় এবং নারীর অগ্রগতির পথে নতুন উদ্যম যোগ করে।
এই দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নারীর সমান অধিকার, সুযোগ এবং নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির আহ্বান। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা আজ অভূতপূর্ব। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি, বিজ্ঞান থেকে শুরু করে ক্রীড়াজগত—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছেন। তবুও বাস্তব চিত্র বলছে, নারীরা এখনো লিঙ্গবৈষম্য, নিরাপত্তার অভাব ও আর্থিক বৈষম্যের মুখোমুখি হন, যা তাদের অগ্রগতির পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি সমাজের মানসিকতা বদলানো অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, নারীর অগ্রগতি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং তা সামগ্রিকভাবে সমাজের উন্নয়নের চাবিকাঠি। নারীদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা মানেই একটি প্রগতিশীল ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়া। নারী দিবস কেবল উদযাপনের দিন নয়, এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সত্যিকার সমতা অর্জনের জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর প্রতিভা ও শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।
বিশ্বজুড়ে নারীদের সম্মান ও ক্ষমতায়নের বার্তা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে নারী দিবস। বিভিন্ন দেশে কর্মক্ষেত্রে নারীদের সুযোগ, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি, তাদের সাফল্যকে স্বীকৃতি জানিয়ে ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার পথ আরও প্রশস্ত করার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে নানান পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ।
তবে নারী দিবসের গুরুত্ব কেবল একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নারীর অধিকার ও নিরাপত্তার লড়াই প্রতিনিয়ত চালিয়ে যেতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করলেই কেবল এক নতুন, সমতার বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব।
