বেলুচিস্তানে জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন ছিনতাইয়ের পর পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে।
সোমবার ট্রেনটি ছিনতাই করে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। ট্রেনটিতে ৪০০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। ছিনতাইকারীরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং বালুচ যাত্রীদের ছেড়ে দিলেও, অনেক পাকিস্তানি সেনা সদস্য তাদের হেফাজতে থাকার দাবি করেছে। তবে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জানায়, বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে সব জিম্মিকে মুক্ত করা হয়েছে এবং ৩৩ জন বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও বিদ্রোহীদের দাবি, এখনো ১৫৪ জন পাকিস্তানি সেনা তাদের হেফাজতে রয়েছে, যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আজ কোয়েটা সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন এবং হামলার শিকারদের সঙ্গে দেখা করবেন।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অভিযোগ করেছেন যে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ভারতীয় ও আফগান মিডিয়ার ভাষায় কথা বলছে। অন্যদিকে, ইমরান খানের সমর্থকরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেলুচিস্তানের সমস্যা তুলে ধরছেন এবং সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, “সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা এ ঘটনার পেছনে রয়েছে, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”
এ ঘটনায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেলুচিস্তানের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে, এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
