বছর ঘুরতেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটি এ বার ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চলেছে। শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আইপ্যাক দলের সঙ্গে একাধিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করবে।
আইপ্যাকের সঙ্গে সম্পর্কের ইতিহাসও দীর্ঘ। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের খারাপ ফলাফলের পর আইপ্যাকের সঙ্গে দলটি গাঁটছড়া বাঁধে। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে দু’শোর বেশি আসন জেতার পর আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে প্রশংসাও প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কিছুদিন আগে আইপ্যাক নিয়ে তৃণমূলে অস্থিরতা তৈরি হয়। মদন মিত্রের মত কিছু নেতার অভিযোগ ছিল, আইপ্যাক দলের জন্য ভুল তথ্য সরবরাহ করছে এবং এর কারণে দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের রাজ্য সম্মেলনে আইপ্যাকের প্রশংসা করেন এবং দলটির সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান। তার পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে কি আইপ্যাকের গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই জল্পনাকে সত্যি করে জানান, আইপ্যাকের সদস্যরা তৃণমূল কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনলাইনে ভোটার তালিকা ও অন্যান্য বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, যদি দলের কোনও কর্মী আইপ্যাক বা তাঁর অফিসের নাম ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করেন, তবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে জানানো হবে। অভিষেক মঞ্চে গোষ্ঠী কোন্দল নিয়েও সতর্ক করেন জেলা নেতাদের। তিনি বলেন, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে জেলা ও ব্লক সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
এদিনের বৈঠক তৃণমূলের সংগঠন ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে নতুন দিশা দেখালো, যার মাধ্যমে ২০২৬ সালের নির্বাচনে আইপ্যাকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যে থাকবে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
