ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থামবে কোন পথে?ক্ষমতায় এসেই যে যুদ্ধ তিনি থামিয়ে দেবেন বলেছিলেন তা এখন অনেক দূরের পথ বলেই মনে করছেন কেউ কেউ।তবে রবিবারই আশাপ্রকাশ করে মার্কিন আধিকারিকেরা জানিয়েছেন তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সম্ভবত ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই’ দাঁড়ি পড়তে চলেছে। কারণ যুদ্ধ বিরতি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহেই কথা বলতে পারেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্ভবত মঙ্গলবারই কথা বলতে পারেন বিশ্বের ক্ষমতাধর দুই প্রেসিডেন্ট।
এদিকে এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এসেছে নতুন দাবি।রাশিয়ার উপবিদেশমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো সেদেশের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন ন্যাটোয় ইউক্রেনকে সদস্য করা হবে না এবং যেকোনো শান্তি আলোচনায় কিয়েভ নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকবে—এমন নিশ্চয়তা পেলে শান্তিচুক্তির পথে হাঁটবে রাশিয়া।
সম্প্রতি সৌদি আরবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিলে কিয়েভ তা মেনে নেয়। এর পরে বাকি থাকে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে লেখেন, “এই ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান হওয়ার খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।” তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেন যে, ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে ‘খেলতে’ দেওয়া যাবে না। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সেভাবে আলোচনার টেবিলে বসা নিয়ে স্পষ্ট ভাবে কিছু জানানো হয়নি। আমেরিকার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিও যুদ্ধবিরতির জন্য চাপে রাখছে রাশিয়াকে।
সবাই যখন রাশিয়ার অবস্থান কী হতে পারে তা জানার জন্য মুখিয়ে তখন ভ্লাদিমির পুতিন বলেন যে যুদ্ধবিরতির ধারণাটি সঠিক এবং আমরা এটিকে সমর্থন করি, তবে এখানে কিছু সূক্ষ্ম বিষয় আছে। ইউক্রেনে শান্তি ফেরানোর জন্য তিনি বেশ কিছু কঠিন শর্তের কথা বলেন যাকে জেলেনস্কি ‘ধুর্ততা’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে প্রেসিডেন্ট পুতিন সবার সঙ্গে অনন্তকাল ধরে আলোচনা চালিয়ে যাবেন। এক দিকে যখন আমেরিকা উদ্যোগী হয়েছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে, তখনও রুশ বাহিনী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ইউক্রেনের। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেছেন, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের ব্যাপারে ক্রেমলিনের এই ‘উপেক্ষা’ প্রমাণ করে যে পুতিন শান্তি প্রক্রিয়ার বিষয়ে সিরিয়াস না।
তবে এমন যখন পরিস্থিতি তখন ট্রাম্পের দূত হিসাবে বৃহস্পতিবার রাতে পুতিনের সঙ্গে দেখা করেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ। রবিবার তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানান যে মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে । ট্রাম্প এবং পুতিনের সম্ভাব্য আলোচনাও ‘ভাল এবং ইতিবাচক’ হবে বলে মনে করেন তিনি। তবে রুশবাহিনী ইউক্রেনের যেসব জমি দখল করে রেখেছে, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সেই বিষয়টি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়েই গেছেন স্টিভ উইটকফ। যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে রাশিয়া। এমন পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার হতে পারে ট্রাম্প-পুতিন আলোচনা।
Leave a comment
Leave a comment
