উত্তরপ্রদেশের মীরঠে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গেছে, এক মহিলা তার প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করে দেহ ১৫ টুকরো করেছে। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত মহিলা এবং তার প্রেমিককে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির নাম অমিত। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই খারাপ যাচ্ছিল। পুলিশের অনুমান, এই টানাপোড়েনের মধ্যেই অভিযুক্ত মহিলা তার প্রেমিকের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এই সম্পর্কের জেরে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে অমিত বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সময় তার স্ত্রী প্রেমিককে ডেকে আনে। তারা দু’জন মিলে প্রথমে অমিতকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেহটি ১৫টি টুকরো করে ফেলে। দেহের টুকরোগুলো বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয় যাতে সহজে খোঁজ পাওয়া না যায়।
ঘটনার তদন্তে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং কল রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে। পুলিশ জানায়, মহিলার আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে সে ঘটনা অস্বীকার করলেও পরে চাপের মুখে খুনের কথা স্বীকার করে। প্রেমিককেও গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার কথা শুনে হতবাক। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, দম্পতির মধ্যে মাঝে মধ্যেই ঝগড়া হত। কিন্তু এই ধরনের নৃশংস ঘটনা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। পুলিশ এখন খুনের পেছনের সঠিক কারণ ও অন্য কারও জড়িত থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তে আরও তথ্য উঠে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশও জানিয়েছে, দ্রুত চার্জশিট জমা দিয়ে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড মীরঠবাসীর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।
