গতকাল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে আইপিএল ২০২৫-এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও এক অদ্ভুত শূন্যতা চোখে পড়েছে। বলিউডের বাদশা শাহরুখ খান নিজে মঞ্চে থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) রাজকীয় অভ্যর্থনা করলেন, অথচ রাজ্য বা কেন্দ্রের কোনো প্রতিনিধির দেখা মেলেনি। এমন সময়ে, যখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কলকাতার মাটিতে শুরু হচ্ছে, সরকারের নীরবতা কি কেবল একটি অনুপস্থিতি, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো বার্তা?
ইডেনের সবুজ মাঠে শাহরুখ খানের উপস্থিতি ছিল বিস্ময়কর ও মোহময়ী। তাঁর স্বভাবসুলভ রসিকতা, করতালির ঝড়, আর মঞ্চকাঁপানো নাচে দর্শকরা অভিভূত। বিরাট কোহলি এবং রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে তাঁর মঞ্চের মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে রইল। তবু, এই আনন্দের মাঝেও প্রশ্ন উঠেছে — কোথায় ছিলেন সরকারের প্রতিনিধি? এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বা ক্রীড়ামন্ত্রীদেরও দেখা যায়নি, যা সাধারণত অপ্রত্যাশিত।
শাহরুখ খান পশ্চিমবঙ্গের স্টিল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেও, এই অনুষ্ঠানে তাঁর পাশে সরকারের কেউ ছিলেন না। সাধারণত আইপিএলের মতো বিশাল মাপের আন্তর্জাতিক ইভেন্টে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি থাকে। এর পেছনের কারণ রাজনৈতিক? নাকি কেকেআর এবং সরকারের মধ্যে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়েছে?
অনুষ্ঠান শেষে অনেকে বলছেন, সরকারের অনুপস্থিতি যেন এক ধরনের নিঃশব্দ বার্তা। সাম্প্রতিক কালে শাহরুখ খানকে নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও দেখা গিয়েছিল, যা কি এই দূরত্বের কারণ? নাকি এটি শুধুই একটি কাকতালীয় ঘটনা?
শাহরুখের উচ্ছ্বাসপূর্ণ সঞ্চালনা, শ্রেয়া ঘোষালের কণ্ঠ, দিশা পাটানির নাচ এবং কর্ণ আউজলার গানে ইডেন গার্ডেন্স প্রাণ ফিরে পেলেও, সরকারের প্রতিনিধিদের না থাকা যেন একটি নিঃশব্দ বিস্ময়ের জন্ম দিল। ক্রিকেটপ্রেমীরা যখন ম্যাচের উত্তেজনায় মগ্ন, তখন পর্দার আড়ালে কি ঘটছে, তা নিয়ে আলোচনা থামছে না। ইডেনের মাঠে শাহরুখের জাদু ছিল অটুট, কিন্তু সরকারের নীরবতা যেন সেই জাদুর মোহময়ীতাকে কিছুটা হলেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
