উত্তরপ্রদেশের আউরিয়া জেলায় ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বিয়ের মাত্র পনেরো দিনের মাথায় স্বামীকে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন নববধূ প্রগতী যাদব। জানা গিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে তার পুরনো প্রেমিক অনুরাগ।
সূত্রের খবর, গত ৫ মার্চ প্রগতীর বিয়ে হয় দিলীপ যাদবের সঙ্গে। তবে এই বিয়ে ছিল একপ্রকার জোরপূর্বক। কারণ, চার বছর ধরে অনুরাগের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল প্রগতীর। সম্পর্কের বিষয়টি প্রগতী তার পরিবারকে জানিয়েও ছিল। কিন্তু পরিবারের কঠোর আপত্তি আসে সেই সম্পর্কে। ফলে, তড়িঘড়ি দিলীপের সঙ্গে প্রগতীর বিয়ের আয়োজন করে তার পরিবার।
বিয়ের পরও প্রগতী মন থেকে মেনে নিতে পারেননি এই সম্পর্ককে। প্রেমিক অনুরাগকে হারানোর দুঃখে ভেঙে পড়েন তিনি। তখনই প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্বামী দিলীপকে ‘হটিয়ে’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রগতী। সুপারি কিলার ভাড়া করে দিলীপকে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
গত বুধবার আউরিয়ার এক পরিত্যক্ত এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলীপের অচেতন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তৎক্ষণাৎ তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে স্থানান্তরিত করা হয় মধ্যপ্রদেশের এক নামকরা বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়, বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান দিলীপ।
দিলীপের মৃত্যুর পর সাহার থানায় খুনের মামলা দায়ের করে তার পরিবার। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, প্রগতী নিজেই তার প্রেমিকের সঙ্গে মিলিত হয়ে এই হত্যার পরিকল্পনা করে। ইতিমধ্যেই প্রগতী ও অনুরাগকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে খুন ও ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করা হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এক মাস কাটতে না কাটতেই একটি নতুন জীবন শেষ হয়ে গেল। প্রশ্ন উঠছে, প্রেম ও প্রতিশোধের এই জটিল খেলায় কতটা অমানবিক হয়ে উঠতে পারে মানুষ। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাটির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে।
