মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ভারতের জন্য শুল্ক নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। এর আগে তিনি ভারতসহ কয়েকটি দেশের ওপর কঠোর প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে সেই কঠোর অবস্থান কিছুটা শিথিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন সম্ভাবনার আলো দেখছে ভারত।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শুল্ক নীতিতে এই পরিবর্তন হলে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, কয়েকটি দেশকে এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ঘোষণার পর ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
খবরে প্রকাশ, দিল্লিতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বৈঠকে অংশ নেবেন। আলোচনার মূল বিষয় হবে দুই দেশের মধ্যে শুল্ক নীতি সমন্বয়, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যের বাধা দূর করা। মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বাজারে তাদের গাড়ি, হুইস্কি এবং কৃষিজাত পণ্য, বিশেষত জেনেটিকালি মডিফায়েড খাদ্যের জন্য আরও বড় সুযোগ চায়।
তবে হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য নীতির চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে ট্রাম্প ভারত থেকে আমদানি হওয়া গাড়ির ওপর শুল্ক বৃদ্ধির হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, কিন্তু নতুন সম্ভাবনার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রথমে মঙ্গলবার বৈঠকের পরিকল্পনা করলেও পরে তা একদিন পিছিয়ে বুধবার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই আলোচনার জন্য একটি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে বাজারে প্রবেশ, ডিজিটাল বাণিজ্য, পরিষেবা খাত এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।
একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে ভারত আমেরিকায় ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য আরও সহজ ভিসা সুবিধার দাবি তুলবে। একইসঙ্গে শুল্ক ছাড় এবং বাণিজ্য সংক্রান্ত অন্যান্য শর্ত সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা মোট ২৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের মধ্যে ৫৫ শতাংশের শুল্ক হ্রাসের পরিকল্পনা করছে। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নত করা এবং মার্কিন শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এবং ব্যবসায়িক বিনিময়কে আরও সহজ করবে। ভারতীয় বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও এতে জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির প্রভাব মোকাবিলায় এটি ভারতের কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, নতুন মার্কিন শুল্ক ভারতীয় রফতানির প্রায় ৮৭ শতাংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, দুই দেশের আসন্ন বাণিজ্য আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত এই আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ছাড় ও অন্যান্য বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করতে চাইবে, যা দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রও তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করতে চাইবে। তাই আসন্ন সংলাপ দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ভবিষ্যৎ বাণিজ্য নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
