সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ভুয়ো জাতি শংসাপত্র নিয়ে এবার পদক্ষেপ শুরু করল রাজ্য সরকার৷ সূত্রের খবর, দুই অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য। ইতিমধ্যেই ইনস্পেক্টর র্যাঙ্কের দুই অফিসারকে শোকজ করেছে অনগ্রসর শ্রেণী উন্নয়ন ও কল্যাণ দফতর। নবান্ন সূত্রে খবর, জাল কাস্ট সার্টিফিকেট তৈরি করার পিছনে এদের যোগ থাকার প্রমাণ মিলেছে। খড়্গপুর ও ব্যারাকপুরের দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা শুরু করেছে অনগ্রসর কল্যাণ সম্প্রদায় দফতর। অভিযুক্ত দুই আধিকারিক এর বক্তব্য জানার পর সেই বক্তব্যের সত্যতা খতিয়ে দেখা হবে। যদি অভিযুক্তদের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হয় সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক পদক্ষেপ করা হবে বলে অনগ্রসর শ্রেণী উন্নয়ন ও কল্যাণ দপ্তর সুত্রে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জেলায় জেলায় জাতি সংসাপত্র নিয়ে জালিয়াতি বা দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রক্ত বা ভিডিও অফিসের কর্মীদের একাংশ জাতির সর্বত্র দেওয়ার কাজী ব্যাপক দুর্নীতি করছেন বলেও বহুবার অভিযোগ পেয়েছে নবান্ন। শুধু দফতর সূত্র মারফত পাওয়া খবরই নয় মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরেও সরাসরি বহু অভিযোগ এসে পৌঁছেছে এই জাতি শংসাপত্র দুর্নীতি নিয়ে। অন্যদিকে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে রাজ্যে ২০১০ সালের পর ওবিসি তালিকা বাতিল হয়েছে। যার ফলে রাজ্যে সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া যথেষ্ট ব্যাহত হচ্ছে। রাজ্যের পক্ষে এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দরবার বলা হলেও তা কাজে লাগেনি। হাইকোর্টের মামলা ফিরিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এরপর হাইকোর্টের কাছে সময় চাই রাজ্য সরকার। বিকল্প তালিকা তৈরির জন্য রাজ্য সরকারের সময় চেয়ে আবেদন মঞ্জুর করেছে হাইকোর্ট। এই পরিস্থিতিতে জাতি শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি স্তরে দুর্নীতির অভিযোগকে রেয়াত করতে নারাজ রাজ্য সরকার। প্রয়োজনে এই ঘটনায় জড়িতদের সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মত কড়া পদক্ষেপ করতে চায় রাজ্য সরকার।
