সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
জালিয়াতি করে চাকরির দায়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরি খোয়ালেন তৃণমূল শিক্ষা সেলের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। চাকরি থেকে প্রাপ্য কোনও বকেয়া ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন না সিরাজুল বলে জানিয়ে দেয় বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। সিরাজুল এর বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। হাওড়া একটি স্কুলে জীববিদ্যার শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন সিরাজুল ইসলাম। সিরাজুল এর চাকরি নিয়ম মেনে হয়নি এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে হাইকোর্ট সিরাজুল কে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে চাকরিতে বহাল ছিলেন সিরাজুল। এরপর রাজ্যে রাজনৈতিক বালাবদল হলে রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয় সিরাজুল। পরবর্তীকালে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের শিক্ষা ছেলের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত হন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এবং বেআইনি নিয়োগের কথা প্রকাশ্যে আসলেও শাসক দলের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ঢাকা সিরাজুল এর চাকরিতে কোন বাধা আসেনি। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে একটি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় ভূ-শিক্ষক হিসেবে সিরাজুলের চাকরির বিষয়টি সামনে আসে। সিরাজুল ইসলামের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। যদিও হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন সিরাজুল। যাবতীয় তথ্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে এবং শুনানি শেষে সিরাজুলকে চাকরি থেকে বরখাস্তে নির্দেশ দেয় বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি মান্থা।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণবঙ্গের কেন্দ্রীয় স্কুল সার্ভিস কমিশনে এই সিরাজুল ইসলামের প্রভাব ছিল যথেষ্ট। একইসঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যোগ মিলেছে সিরাজুলের। তথ্য প্রমাণ উন্নতি খাটতে গিয়ে এবং এক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি কর্তা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে জানা যায় সিরাজুলের নিজেও সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে শিক্ষক পদে চাকরি পেয়েছিলেন।
