লিওনেল মেসি কি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে থাকবেন? আর্জেন্টিনার দাপুটে জয়ের পর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এই আলোচনা তুঙ্গে। মঙ্গলবার রাতে নিজেদের মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপের লক্ষ্যে এগিয়ে গেল আরও একধাপ। তবে এই জয়ের মাঝেই নতুন প্রশ্ন—মেসিকে ছাড়াই কি লড়তে হবে দলকে? ম্যাচের স্কোরলাইন বলছে, আর্জেন্টিনা ৪-১ ব্রাজিল।
অভিজ্ঞতার ঝুলি, নেতৃত্বগুণ এবং খেলার মাঠে অপ্রতিরোধ্য উপস্থিতি মেসিকে আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় সম্পদ করে তুলেছে। তাই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দল এবং সমর্থকদের জন্য উদ্বেগের কারণ। যদিও এখনই নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না, আর্জেন্টিনার চোখ থাকবে তাদের অধিনায়কের সিদ্ধান্তের দিকে।
চোটের কারণে ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারেননি মেসি। তবু তাঁর অভাব বুঝতে না দিয়েই দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে মেসির বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ স্কালোনি। তিনি বলেন, “এখনই কিছু বলা কঠিন। বিশ্বকাপ অনেক দূরে, আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। মেসির সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন, আমরা শুধু অপেক্ষা করতে পারি।”
মেসি ছাড়া দল এত দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলেও অনেকেই মনে করছেন, তাঁর উপস্থিতি থাকলে আর্জেন্টিনার জয় আরও বড় হতে পারত। দলের অন্যতম ফরোয়ার্ড জুলিয়ান আলভারেজ বলেন, “মেসি থাকলে আরও দুই-তিনটি গোল পেতাম।রদ্রিগো দি পল মনে করেন, দলের ১০ নম্বর থাকলে আর্জেন্টিনার খেলা অন্য মাত্রায় পৌঁছে যায়।
যদিও তিনি কারও নাম নেননি, তবু বোঝাই যাচ্ছে যে মেসির কথাই বলেছেন। বর্তমানে মেসি মায়ামিতে বিশ্রামে রয়েছেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বড় জয়ের পর সতীর্থদের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন তিনি।
তবে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা থামছে না। ২০২৬ বিশ্বকাপে তাকে মাঠে দেখা যাবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। আর্জেন্টিনা দলে তার প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই, যা ব্রাজিল ম্যাচের পর আরও স্পষ্ট হয়েছে। দলের পারফরম্যান্স যতই দুর্দান্ত হোক, সমর্থকদের চোখ এখনও মেসির দিকেই। বিশ্বকাপে ফিরবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনো তার হাতে, আর সেই প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব।
