পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (WBBME) শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের জন্য নতুন ‘হোলিস্টিক রিপোর্ট কার্ড’ চালু করতে চলেছে। নতুন এই পদ্ধতিতে একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমকেও মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। বোর্ডের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে নয়, বরং তাদের সামগ্রিক দক্ষতার উপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে এই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের দক্ষতার একমাত্র মাপকাঠি নয়—এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, বিতর্ক এবং নাটকের মতো সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া, নেতৃত্বের গুণাবলী, দলগত সহযোগিতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও এই মূল্যায়ন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং সৃজনশীল চিন্তাধারার বিকাশকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের দুর্বল দিক চিহ্নিত করে তা উন্নয়নের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নতুন এই মূল্যায়ন পদ্ধতির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষকদের শেখানো হবে কীভাবে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে হবে।
এক শিক্ষক জানিয়েছেন, “শুধু পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার কারণে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেত। এখন সামগ্রিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপর থেকে চাপ অনেকটাই কমবে।” শিক্ষার্থীরা তাদের অন্যান্য দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পাবে এবং সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দিতে পারবে।
অভিভাবকদের মধ্যেও এই নতুন পদ্ধতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এক অভিভাবক জানিয়েছেন, “শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বেড়ে যায়। নতুন এই মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও অন্যান্য দক্ষতার বিকাশ নিশ্চিত হবে।” অন্যদিকে, কিছু অভিভাবক পরীক্ষার বাইরে মূল্যায়নের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একাডেমিক ফলাফল ছাড়া শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক মূল্যায়ন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে তারা সংশয়ী।
শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, “শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আমাদের মূল্যায়ন করা হবে না, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। এতে আমাদের খেলাধুলা, সৃজনশীল কাজ এবং অন্যান্য দক্ষতাগুলিও গুরুত্ব পাবে।” অন্য এক শিক্ষার্থী বলেছেন, “এখন আমাদের মানসিক বিকাশ এবং অন্যান্য দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পাওয়া যাবে। পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভরশীল না হয়ে অন্যান্য কার্যক্রমেও পারফরম্যান্স দেখানোর সুযোগ পাওয়া যাবে।”
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমিয়ে তাদের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করবে। পরীক্ষার ফলাফলের পাশাপাশি সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং মানসিক বিকাশের মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতার সঠিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নতুন ‘হোলিস্টিক রিপোর্ট কার্ড’ পদ্ধতি শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীল চিন্তাধারা এবং সামাজিক দক্ষতার বিকাশ নিশ্চিত করতে এই পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই উদ্যোগকে সফল করতে সহায়ক হবে।
