নদিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে চাকদহ পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সত্যজিৎ বিশ্বাস ওরফে সাধনের নাম দুই আলাদা জায়গার ভোটার তালিকায় থাকা নিয়ে। চাকদহের বাসিন্দা ও পুরপ্রতিনিধি হলেও, তাঁর নাম এবং তাঁর স্ত্রী শম্পা বিশ্বাসের নাম রাণাঘাট পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার তালিকাতেও রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করে শাসকদলকে কাঠগড়ায় তুলেছে। বিজেপির রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের বিধায়ক পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেছেন, “ভূতুড়ে ভোটার ধরতে গিয়ে আসলটাই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। কারা ভূতুড়ে ভোটার? এই সমস্ত লোকেরাই তো ভোট দিত।”
তবে এই প্রসঙ্গে পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন সত্যজিৎ বিশ্বাস। তিনি বলেন, “ভোটার লিস্ট সংশোধন করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। আমি এক জায়গায় নাম তোলার পর অন্য জায়গা থেকে নাম না কাটলে সেটার দায় আমার নয়।” তাঁর দাবি, তিনি নিয়ম মেনে চাকদহেই ভোটার, কিন্তু পুরনো তালিকা থেকে রানাঘাটের নাম মুছে ফেলার প্রক্রিয়া হয়তো সম্পন্ন হয়নি।
এই বিতর্ক নিয়ে রানাঘাট পুরসভার পুরপ্রধান কৌশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভোটার লিস্ট স্বচ্ছ হওয়া দরকার, এটাই আমাদের দাবি। রাজনৈতিক রং না দেখে নির্বাচন কমিশন যদি সঠিক তদন্ত করে, তাহলে এমন নাম বাদ দেওয়া উচিত।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের আওতায় পড়ে এবং রাজনীতির স্বার্থে কেউ যেন একে অন্যভাবে না ব্যবহার করে।
এই ঘটনা এমন সময় সামনে এল, যখন তৃণমূল কংগ্রেস বারবার ‘ভূতুড়ে ভোটার’ ইস্যুতে সরব হয়েছে। অথচ, নিজের দলের এক জনপ্রতিনিধির নামই দুই জায়গার ভোটার তালিকায় থাকায় অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল।
নদিয়ার রাজনৈতিক মহল এখন চেয়ে আছে, নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়। সত্যজিৎ বিশ্বাস কি তাঁর রানাঘাটের ভোটার তালিকা থেকে নাম সরানোর উদ্যোগ নেবেন, নাকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর সব ছেড়ে দেবেন? প্রশ্ন উঠছে বারবার।
