বাড়িতে নবজাতকের জন্ম হলে আনন্দ-উৎসব ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ‘একুশে’, ‘আটকলাই’, ‘অন্নপ্রাশন’-এর মতো রীতি চালু রয়েছে। একইভাবে তামিলনাড়ুতেও দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে ‘থাইমামান সির’ নামে একটি ঐতিহ্য, যেখানে শিশুর জন্মের পর মামার বাড়ি থেকে উপহার পাঠানো হয়। সেই সাংস্কৃতিক আবেগকেই এবার সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে তামিলনাড়ু সরকার। সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া প্রতিটি নবজাতককে ১ গ্রামের একটি সোনার আংটি উপহার দেওয়ার ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চালু হতে চলেছে ‘থাইমামান থাঙ্গা মোথিরম থিত্তাম’ বা ‘সোনার আংটি প্রকল্প’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য সরকার কার্যত প্রতিটি নবজাতকের ‘মামার বাড়ি’র দায়িত্ব পালন করবে। অর্থাৎ, প্রতিটি নবজাতককে একটি করে এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি উপহার দেবে তামিলনাড়ুর জোসেফ বিজয়ের টিভিএফ সরকার। বলে রাখা ভালো। বর্তমানে ১ গ্রামের সোনার আংটির বাজারমূল্য প্রায় ১৩,৬০০ টাকা।
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সি এন আন্নাদুরাইয়ের জন্মবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির সূচনা করবেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তবে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, এই প্রকল্প ২২ জুন থেকে পূর্ববর্তী সময়কাল ধরে কার্যকর বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ ওই তারিখের পর সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকরাও এই সুবিধার আওতায় আসবে।
এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকার বার্ষিক ৭৫৫.৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুতে বছরে প্রায় ৭.৮ লক্ষ শিশুর জন্ম হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ বা প্রায় ৪.২ লক্ষ সন্তান জন্ম নেয় সরকারি হাসপাতালগুলিতে। ফলে বিপুল সংখ্যক পরিবার এই প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা পাবে।
কারা এই সুবিধা পাবেন, সেই বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে সরকার। তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা এবং সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা সরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসব করা সমস্ত মায়েরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। ছেলে বা মেয়ে—লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রতিটি নবজাতক এই সোনার আংটি পাবে। শুধু তাই নয়, প্রথম সন্তান হোক বা দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়, সন্তান জন্মক্রমের ভিত্তিতেও কোনও বিধিনিষেধ রাখা হয়নি।
সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পরিচয়পত্র জমা দিতে হবে। এর জন্য রেশন কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, আধার কার্ড, শ্রম কল্যাণ বোর্ডের পরিচয়পত্র, পোস্ট অফিসের ঠিকানার প্রমাণপত্র অথবা নেটিভিটি সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হবে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারের মতে, এই প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়, বরং মাতৃত্ব এবং নবজাতকের আগমনকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সম্মান জানানো। তামিল সমাজে সোনা উপহার দেওয়ার ঐতিহ্য বহু পুরনো। সেই প্রথার সঙ্গে সরকারি কল্যাণমূলক উদ্যোগকে যুক্ত করেই এই প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে।
সন্তানের জন্ম হলেই সোনার আংটি দেবে সরকার! ক্ষমতায় এসেই বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর