কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তের গতি নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে সিবিআই। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কার্যত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে জানতে চাইল, প্রায় দু’বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্তে নতুন অগ্রগতি কোথায়? আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, আরজি কর-কাণ্ডের ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’-এর সূত্র এখনও অধরাই থেকে গিয়েছে।
বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চের কড়া প্রশ্ন, এত দিনের তদন্তে সিবিআই কী নতুন তথ্য বা নথি সংগ্রহ করেছে? আদালতের মন্তব্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরে চার্জশিট জমা পড়ার পর তদন্ত কার্যত একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এমনকি গত ২১ মে আদালত যে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল, সেই নির্দেশও যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে মনে করছে বেঞ্চ।
শুনানির সময় বিচারপতিরা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “সিবিআই কি হাইকোর্টেরও উপরে?” এমনকি তদন্তভার সিবিআইয়ের হাত থেকে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উত্থাপিত হয়। আদালতের ক্ষোভ, ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান সেমিনার রুমে সম্ভাব্য প্রমাণ নষ্ট হওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সেই দিকটি নিয়ে সন্তোষজনক তদন্ত হয়নি। একই সাক্ষীকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তদন্তের বাস্তব অগ্রগতি কোথায়, সেই উত্তর মেলেনি।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, নির্যাতিতার পরিবারও প্রকাশ্যে সিবিআইয়ের তদন্তে অনাস্থা জানিয়ে বলেছে, কেন্দ্রীয় সংস্থা যদি সত্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়, তবে তদন্তভার রাজ্যের সিআইডিকে দেওয়া হোক। দীর্ঘদিন ধরেই পরিবার অভিযোগ করে আসছে যে প্রকৃত অপরাধী বা সম্ভাব্য বৃহত্তর চক্রের সন্ধানে তদন্ত এগোয়নি। সাম্প্রতিক শুনানিতেও তারা প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তুলেছে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে হাইকোর্ট নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সিবিআইয়ের তিন সদস্যের বিশেষ দল গঠন করেছিল। আদালত বলেছিল, ঘটনার রাতের ডিনার থেকে শুরু করে দেহ সৎকার পর্যন্ত পুরো ঘটনাক্রম নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছিল এবং ঘটনার গুরুত্ব আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেই দিকও তদন্তের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আরজি কর-কাণ্ড পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত অপরাধগুলির একটি। ২০২৪ সালের অগস্টে ঘটে যাওয়া সেই নৃশংস ঘটনার অভিঘাত ছড়িয়ে পড়েছিল দেশজুড়ে। একজন দোষী সাব্যস্ত হলেও পরিবারের দাবি, গোটা ঘটনার পিছনে আরও বড় চক্রান্ত ছিল কি না, তার উত্তর এখনও অধরা। আর সেই কারণেই বৃহস্পতিবারের হাই কোর্টের মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলল, ন্যায়বিচারের পথ কি এখনও অনেকটাই বাকি?
ক্ষুব্ধ বিচারপতিরা, নতুন করে চাপে কেন্দ্রীয় সংস্থা