এশিয়ার মুখ উজ্জ্বল করল জাপান। ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে এবারের বিশ্বকাপে প্রথম এশীয় দল হিসাবে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করল সামুরাই ব্লু। শুক্রবার ভোরে গ্রুপের শেষ ম্যাচে সুইডেনের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করেই রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা পাকা করলেন দাইজেন মায়েদারা। জাপানের পাশাপাশি নকআউটে উঠেছে নেদারল্যান্ডসও। অন্য দিকে, তৃতীয় স্থানে থেকেও চার পয়েন্ট নিয়ে পরের পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে সুইডেন।

গ্রুপ পর্বে শুরু থেকেই ছন্দে ছিল জাপান। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র করে চমকে দিয়েছিল তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিশিয়াকে ৪-০ উড়িয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় দাইচি কামাডাদের। সেই কারণে সুইডেনের বিরুদ্ধে জয়ের প্রত্যাশাই ছিল বেশি। বিশেষ করে আগের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে ১-৫ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছিল সুইডিশরা। কিন্তু এ দিন জাপান নিজেদের স্বাভাবিক ধারটা পুরোপুরি খুঁজে পায়নি।

প্রথমার্ধে দুই দলই রক্ষণ সামলাতেই বেশি ব্যস্ত ছিল। গোলের সুযোগ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে ভাঙেনি অচলাবস্থা। বিরতির পর আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় জাপান। তারই ফল ৫৬ মিনিটে দাইজেন মায়েদার গোল। তবে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র ছয় মিনিট পর জাপানের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে সমতা ফেরান অ্যান্থনি এলাঙ্গা। শেষ পর্যন্ত আর কোনও দলই ব্যবধান গড়ে তুলতে পারেনি। ১-১ ফলেই শেষ হয় লড়াই।

গ্রুপ এফ-এর খেলা শেষ হওয়ার পর শীর্ষ দুই দল হিসেবে নকআউটে উঠেছে নেদারল্যান্ডস এবং জাপান। সুইডেনও সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারী দলগুলির অন্যতম হিসেবে পরের পর্বে পৌঁছে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই নকআউট নিশ্চিত করেছে আইভরি কোস্ট এবং ইকুয়েডরও। তবে সামুরাইদের সামনে এ বার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। নকআউটে প্রতিপক্ষ পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। মাঠে নামবেন নেইমার, ভিনিসিয়াস জুনিয়ররা। তাঁদের রুখে দিয়ে এশিয়ার স্বপ্ন আরও দূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে কি জাপান, সেটাই এখন দেখার।