যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আবহের মধ্যেই ফের বারুদের পোড়া গন্ধে ভরে উঠল হরমুজ প্রণালী। হরমুজ অতিক্রম করার সময় হামলার মুখে পড়ল সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’। এই ঘটনার পর পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, এই হামলা ইরান-আমেরিকার মধ্যে যে শান্তি আলোচনা চলছে, তার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ঘটনাচক্রে, সিঙ্গাপুরেই বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে মার্কিন প্রশাসনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। হামলার বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ব্রিটিশ নৌবাহিনীও। তাদের দাবি, ওমান উপকূলের কাছে অজ্ঞাত হামলাকারীরা জাহাজটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলায় জাহাজটির কন্ট্রোল রুম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

হামলার দায় নিয়ে এখনও পর্যন্ত ইরান বা আমেরিকা—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি। তবে ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এর আগেই ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, "হরমুজ আর কোনও দিন যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরবে না।" সেই মন্তব্যের পর থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছিল। এরপরই সিঙ্গাপুরের জাহাজে হামলার ঘটনায় সেই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই ধরনের কড়া অবস্থান নিচ্ছে তেহরান। সম্প্রতি ইরানের আধাসামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও সতর্ক করে বলা হয়েছিল, তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে 'এভার লাভলি'-র উপর হামলা সেই হুঁশিয়ারিরই বাস্তব প্রতিফলন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।