২৬-এর বিধানসভার ফলাফলে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। হয়েছে একের পর এক দলত্যাগ। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নতুন করে চর্চার কেন্দ্র বিন্দুতে এসেছে তৃণমূলের একুশে জুলাই-এর সভা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট ঘোষণা, " পাঁচজন কর্মী থাকলেও ধর্মতলা যাব একুশে জুলাই।" আর তার এই মন্তব্যকে ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রামমোহন হলে একটি প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। আর সেই সভাতেই ফোনের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখেন , 'যাঁদের শুভবুদ্ধি আছে তাঁরা ফিরে আসুন। মনে রাখবেন যাঁরা গিয়েছেন তাঁরা না ঘরকা-না ঘাটকা।' এছাড়াও তিনি বলেন, 'একুশে জুলাই ৫ জন থাকলেও ধর্মতলায় যাব’। এর থেকেই স্পষ্ট একুশে জুলাই-এর মঞ্চ থেকেই দলের অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল।
এছাড়াও বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ, 'তৃণমূলের দলীয় কর্মীদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে বিজেপি। যারা ব্যক্তিগত স্বার্থে দলত্যাগ করেছে তাদের বিশ্বাসঘাতকতা কোনদিনই মেনে নেওয়া হবে না।' পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধেও একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
একটা সময় একুশে জুলাই-এর মঞ্চ মানেই ছিল তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন। কাতারে কাতারে কর্মী সমর্থকদের ঢল, শত শত বাস, রাজনীতির রণকৌশলের ঘোষণা, সেলিব্রিটিদের ভিড়, গান-বাজনা, খাওয়া-দাওয়া যেন একেবারে উৎসবের আবহ। কর্মী সমর্থকেরা সারা বছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকতেন তৃণমূল নেত্রীর বার্তা শোনার জন্য। তবে বর্তমানে রাজনীতির সমীকরণ একেবারে ৩৬৫° বদলে গিয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের এই মেগা ইভেন্ট কতখানি সফল হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়। এই মঞ্চ থেকেই কি পুনরায় মাস্টার স্ট্রোক দিতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী? তাই বাংলার মানুষের নজর এখন একুশে জুলাই!
'৫ জন কর্মী থাকলেও ধর্মতলায় যাব’, একুশে জুলাই প্রসঙ্গে বড় ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের