কলকাতা: তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসে মৃত্যুর সংখ্যা যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। উদ্ধারকাজ এখনও শেষ না হলেও, ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে কলকাতা পুরসভার একটি নথি, যা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সেই নথিতে দেখা যাচ্ছে, ভেঙে পড়া গুদামটির নির্মাণ পরিকল্পনার অনুমোদনের ফাইলে তৎকালীন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। ফলে এই প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, তারাতলা কাণ্ডে আগেই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, 'তারাতলার ঘটনা তৃণমূলের পাপের ফল!'

গত বুধবার দুপুরে তারাতলার বন্দর এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি বহুতল গুদামের ছাদ আচমকা ভেঙে পড়ে। সেই সময় ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। মুহূর্তের মধ্যে কংক্রিট ও লোহার বিমের নীচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। টানা উদ্ধার অভিযানের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫। আহত একাধিক শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে।

এই ঘটনার মধ্যেই সামনে আসে কলকাতা পুরসভার অনুমোদন-সংক্রান্ত নথি। তাতে দেখা যায়, গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনায় তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, পুর কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের স্বাক্ষর রয়েছে। সেই নথি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। ফলে দাবি উঠছে, শুধুমাত্র নির্মাণকারী সংস্থার ভূমিকা নয়, অনুমোদন প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা উচিত। তবে পুরসভা সূত্রের বক্তব্য, অনুমোদিত নকশায় স্বাক্ষর থাকা মানেই নির্মাণের প্রতিটি ধাপের দায় সেই স্বাক্ষরকারী আধিকারিক বা জনপ্রতিনিধির উপর বর্তায় না। প্রকৃত দায় কার, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

ইতিমধ্যেই গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাজ হয়েছিল কি না, সেই সব দিক খতিয়ে দেখছেন। প্রয়োজনে পুরসভার সংশ্লিষ্ট নথিও তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

তারাতলার এই দুর্ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। একদিকে প্রশাসনিক অনুমোদনের নথি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ভবনের পরিকল্পনা অনুমোদন এবং বাস্তবে নির্মাণ- এই দুই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা। তাই নথিতে কার স্বাক্ষর রয়েছে, তার পাশাপাশি নির্মাণের সময় নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না এবং কোথায় গাফিলতি হয়েছে, সেটাই তদন্তের মূল বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে।

মৃত্যুমিছিলের মাঝেই তাই এখন একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা। পুরসভার সেই নথি কি তদন্তে নতুন মোড় আনবে? নাকি প্রকৃত দায় সীমাবদ্ধ থাকবে নির্মাণকারী সংস্থার মধ্যেই? উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতিতেই।