ঘন, লম্বা ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল এখন শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, আত্মবিশ্বাসেরও অন্যতম অংশ। তাই চুল পড়া কমানো বা নতুন চুল গজানোর আশায় অনেকেই ভরসা রাখছেন ঘরোয়া উপায়ের উপর। সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে তিনটি উপাদান চালের জল, রোজমেরি তেল এবং পেঁয়াজের রস। অনেকেই দাবি করেন, এই তিনটির নিয়মিত ব্যবহারে চুল দ্রুত বাড়ে এবং নতুন চুলও গজায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সব দাবির পিছনে সমান বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
চালের জল বহু শতাব্দী ধরেই চুলের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে জাপান ও কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যচর্চায় এর উল্লেখ রয়েছে। চালের জলে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন বি এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট চুলের বাইরের স্তরকে মসৃণ করতে সাহায্য করে। এর ফলে চুল নরম, উজ্জ্বল এবং কম রুক্ষ দেখায়। তবে চালের জল নতুন চুল গজাতে বা চুলের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায় এমন শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও মেলেনি। তাই এটি মূলত চুলের গুণগত মান উন্নত করতেই বেশি কার্যকর বলে মনে করা হয়।
অন্যদিকে, রোজমেরি তেল সাম্প্রতিক সময়ে চুলের যত্নে সবচেয়ে জনপ্রিয় উপাদানগুলির একটি হয়ে উঠেছে। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়তে পারে, প্রদাহ কমতে পারে এবং চুলের গোড়া আরও শক্তিশালী হতে পারে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে চুল পড়া কমে এবং নতুন চুল গজানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়। তবে এর ফল রাতারাতি পাওয়া যায় না। কয়েক মাস নিয়মিত ব্যবহার করার পরেই পরিবর্তন লক্ষ্য করা সম্ভব এবং সবার ক্ষেত্রে একই ফল নাও মিলতে পারে।
পেঁয়াজের রসও বহু বছর ধরে ঘরোয়া টোটকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা সালফার কেরাটিন উৎপাদনে সাহায্য করতে পারে, যা চুলকে মজবুত করে। কিছু নির্দিষ্ট ধরনের চুল পড়ার সমস্যায়, বিশেষ করে অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটার ক্ষেত্রে, এটি উপকার করতে পারে বলে কয়েকটি গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। তবে সাধারণভাবে নতুন চুল গজানো বা চুল ঘন করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এখনও নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। বরং অনেকের মাথার ত্বকে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করলে জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা অ্যালার্জির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
এই তিনটি উপাদানের মধ্যে রোজমেরি তেলের পক্ষেই তুলনামূলকভাবে বেশি বৈজ্ঞানিক সমর্থন রয়েছে। তবে কোনও ঘরোয়া উপাদানই একাই চুল পড়া বা টাকের সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। চুল পড়ার নেপথ্যে হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা বংশগত কারণও থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়ার সমস্যা থাকলে শুধুমাত্র ভাইরাল টোটকার উপর নির্ভর না করে একজন ত্বক ও চুল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
চালের জল, রোজমেরি তেল না পেঁয়াজের রস? চুলের যত্নে কোনটি বেশি কার্যকর