অস্ত্র হাতে গুরুদ্বারের দখল নিহঙ্গ শিখদের! ফিরল স্বর্ণমন্দিরের বিভীষিকা? 

তরোয়াল সহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গুরুদ্বারে ঢুকল একদল নিহঙ্গ শিখ, ঘন্টাখানেকের চেষ্টাতেই ধরে সেখানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিল তাঁরা। শুধু তাই নয়, গুরুদ্বারের ছাদে এক পুণ্যার্থীকে আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। উত্তরাখণ্ডের এই ঘটনা যেন মনে করিয়ে দিল ফিরল স্বর্ণ মন্দিরের বিভীষিকাকে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জুন। হেমকুণ্ড সাহিব দর্শন শেষে ফেরার পথে কার্নপ্রয়াগ এলাকায় মোহালি থেকে আসা কয়েকজন নিহঙ্গ শিখের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের বচসা বাধে। পরে সেই বচসা সংঘর্ষে পরিণত হয়। অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় নিহঙ্গ শিখদের একাংশ তলোয়ার নিয়ে হামলা চালায়। ঘটনায় এক নিহঙ্গ শিখ-সহ মোট চারজন আহত হন।

এরপর ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতেই নিহঙ্গ শিখদের একটি দল গুরুদ্বারে অবস্থান শুরু করে। শনিবার সন্ধ্যায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা গুরুদ্বারে প্রবেশ করে এবং ছাদে উঠে অবস্থান নেয়। সেই সময় এক পুণ্যার্থীকে আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু হয়। সূত্রের খবর, গুরুদ্বারের ছাদে অবস্থানরত ছয় নিহঙ্গ শিখকে শান্তিপূর্ণভাবে নিচে নামিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাগাতার আলোচনা চালানো হচ্ছে। তবে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে গেলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

ঘটনাটি সামনে আসতেই ১৯৮৪ সালের অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরে ঘটা ঘটনাবলির স্মৃতি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সেই সময় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা জার্নেল সিং ভিন্দ্রানওয়াল এবং তাঁর অনুগামীরা স্বর্ণ মন্দির চত্বরে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী Iইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ পরিচালনা করে। ওই অভিযানে বহু সশস্ত্র জঙ্গি এবং ভিন্দ্রানওয়ালে নিহত হন। ভারতের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত সেই অধ্যায়ের স্মৃতিও এই ঘটনার জেরে ফের সামনে এসেছে।