হু হু করে ছড়াচ্ছে রোগ! আতঙ্কের আরেক নাম হয়ে উঠছে এই ভাইরাস! কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
করোনা অতিমারির পর থেকেই ভাইরাসের নাম শুনলেই আমরা শিউরে উঠি। আর সেই ভাইরাসের সংক্রমণ যদি ভয়াবহ আকার নেয়, তা রীতিমতো আতঙ্ক ছড়ায়। ঠিক যেমন এখন ভয় ধরিয়েছে ইবোলা ভাইরাস। আফ্রিকার দেশ কঙ্গোয় দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইবোলা সংক্রমণ। মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা হাজারের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০৩। ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ২৫৪ জন। পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় সতর্ক হয়েছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মহল।
গত ১৫ মে প্রথমবার কঙ্গোয় ইবোলা সংক্রমণের খবর প্রকাশ্যে আসে। তারপর থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই সংক্রমণের বিস্তার স্বাস্থ্যকর্তাদের চিন্তা বাড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আক্রান্তদের শনাক্তকরণ, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে আফ্রিকার শীর্ষ স্বাস্থ্য সংস্থা ‘আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। সংস্থার প্রধান জিন কাসেয়া জানিয়েছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিকে সর্বতোভাবে সাহায্য করা হবে। প্রয়োজনীয় অর্থ ও চিকিৎসা-সামগ্রী দ্রুত জোগাড় করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের সংক্রমণের জন্য দায়ী বুন্ডিবুজিও ভাইরাস, যা ইবোলার একটি বিরল এবং অত্যন্ত সংক্রামক প্রজাতি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও কোনও অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পরও তাঁর শরীরের বিভিন্ন তরল থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হতে পারে।
উল্লেখ্য ইবোলা একটি প্রাণীবাহিত মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। অর্থোইবোলাভাইরাস পরিবারের এই সংক্রমণের তিনটি প্রধান রূপ রয়েছে— ইবোলা ভাইরাস, সুদান ভাইরাস এবং বুন্ডিবুজিও ভাইরাস। সাধারণত রক্তক্ষরণজনিত জ্বর সৃষ্টি করে এই রোগ, যার গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। গবেষকদের মতে, ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের অন্যতম প্রধান বাহক। এছাড়াও শিম্পাঞ্জি, গোরিলা, বাঁদর, বুনো হরিণ কিংবা শজারুর মতো প্রাণীর সংস্পর্শ থেকেও সংক্রমণ ঘটতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি, নিঃসরণ, শরীরের তরল, পোশাক, বিছানাপত্র কিংবা অন্যান্য দূষিত সামগ্রীর মাধ্যমেও ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।