স্নিগ্ধা চৌধুরী 

বাংলার রাজনীতিতে পালাবদলের পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট ঘিরে প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। সেই প্রত্যাশার মঞ্চেই অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করে বুঝিয়ে দিলেন, নতুন সরকার শুধু হিসেবের খাতা খুলতে আসেনি, রাজনৈতিক বার্তাও দিতে এসেছে। ডিএ থেকে চাকরি, অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে কৃষক সহায়তা, বাজেটের প্রতিটি পাতায় জনমুখী প্রতিশ্রুতির ছাপ স্পষ্ট।

 

সরকারি কর্মীদের মোট ৩৮ শতাংশ ডিএ ঘোষণা নিঃসন্দেহে এই বাজেটের বড় আকর্ষণ। দীর্ঘদিনের দাবি মেটানোর পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এক লক্ষ সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ, তার মধ্যে ৫০ হাজার শিক্ষক ও ২০ হাজার পুলিশ নিয়োগের প্রস্তাব চাকরিপ্রার্থীদের কাছে নতুন আশার দরজা খুলে দিল।

 

নারীশক্তিকে কেন্দ্র করে অন্নপূর্ণা যোজনায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, মহিলাদের বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, প্রসূতিদের আর্থিক সহায়তা সব মিলিয়ে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক নয়, মহিলাদের অর্থনৈতিক শক্তিকেই সামনে আনার চেষ্টা দেখা গেল।

 

কৃষকদের জন্য বীজ কেনার সহায়তা, বিদ্যুতে ছাড়, কোল্ড স্টোরেজ, ধানের সহায়ক মূল্যের মতো ঘোষণা গ্রামীণ বাংলাকে সরাসরি ছুঁয়ে যায়। উত্তরবঙ্গে AIIMS, IIT, মেডিক্যাল কলেজ, বিমানবন্দর এই ঘোষণাগুলি যদি বাস্তবে রূপ পায়, তবে তা দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বঞ্চনার জবাব হতে পারে।

 

তবে বাজেটের সৌন্দর্য ঘোষণায় নয়, বাস্তবায়নে। কাগজে স্বপ্ন আঁকা সহজ, মাটিতে নামানো কঠিন। এখন নজর থাকবে, ডবল ইঞ্জিন সরকার এই প্রতিশ্রুতিগুলিকে কত দ্রুত মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে পারে। কারণ বাংলার মানুষ হাততালি দিয়েছে, এবার তারা ফলও চাইবে।