বড়সড় পালাবদল মুখে ব্রিটেন। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কিয়ের স্টারমার। তাঁর পদত্যাগের পরই শুরু হয়েছে উত্তরসূরি নিয়ে জোর আলোচনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন লেবার পার্টির প্রভাবশালী নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
স্টারমারের পদত্যাগের ফলে গত এক দশকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদ ছাড়া ব্রিটেনের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হলেন তিনি। সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পর থেকেই লেবার পার্টির অন্দরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জোরালো হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত সেই চাপের মুখেই স্টারমারের বিদায় ঘটেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।
১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণকারী ৫৬ বছর বয়সি অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে উত্তর ইংল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ নামেও পরিচিত তিনি। বিশেষ করে কোভিড-১৯ অতিমারীর সময় তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সরব অবস্থান নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন বার্নহ্যাম। উত্তর ইংল্যান্ডের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তাঁর দৃঢ় অবস্থান তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে তাঁর কাজের প্রশংসা বহুবার শোনা গিয়েছে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার থেকেছেন তিনি। ফলে উত্তরাঞ্চলে তাঁর একটি শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে বার্নহ্যামের সামনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর ইংল্যান্ডে তাঁর জনপ্রিয়তা থাকলেও গোটা যুক্তরাজ্য জুড়ে একই মাত্রার গ্রহণযোগ্যতা তিনি অর্জন করতে পারবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইংল্যান্ডের পাশাপাশি স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভোটারদের আস্থা অর্জন করাও তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
স্টারমারের বিদায়ের নেপথ্যে দলের অন্দরের ক্ষোভকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লেবার পার্টির শতাধিক সাংসদ প্রকাশ্যে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। ওই সাংসদরা হাউস অব কমন্সে দলের মোট আসনের প্রায় এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ফলে নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করেছিল।