4 মে বেলা গড়াতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টসরকারি সাম্রাজ্যট চূর্ণ হতে চলেছে ৷ তবে শুধু ক্ষমতা হারানো নয়, বর্তমানে দল এবং দলের তহবিল রক্ষা করাও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্রমশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ একদিকে ৪৪০ কোটি টাকা থাকা তিনটি দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ। অন্যদিকে দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে বিশেষ অধিবেশনের ডাক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের। ফলে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে সোমবার রাজনৈতিক নাটকীয়তা পৌঁছল নতুন মাত্রায়।

দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন চালুর দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (মমতা তৃণমূল)। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলাটি দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তৃণমূলের পক্ষে আইনজীবী কিশোর দত্ত আদালতে দাবি করেন, বিধাননগর সাইবার থানায় দায়ের হওয়া একটি ভুয়ো অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের অনুরোধে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ দলের তিনটি অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করে দেয়। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে দলীয় সাংগঠনিক কাজকর্ম কার্যত বিপর্যস্ত হয়েছে এবং আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এই বিতর্কের সূত্রপাত প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানান বলে অভিযোগ। পরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ১০ জন তৃণমূল বিধায়কও বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন। এরপর প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা থাকা তিনটি অ্যাকাউন্টের লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করে ব্যাঙ্ক।

এই ঘটনার জেরে অরূপ বিশ্বাসকে শোকজ করে তৃণমূল। তবে শোকজের জবাবে তিন পাতার চিঠিতে তিনি দাবি করেন, নামমাত্র কোষাধ্যক্ষ হলেও বাস্তবে দলের অধিকাংশ আর্থিক লেনদেন তাঁর অগোচরেই পরিচালিত হয়েছে। সেই অভিযোগ সামনে আসতেই তৃণমূলের অন্দরমহলের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল করে সোমবার বিকেলে নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে বিশেষ অধিবেশনে বসেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী। বৈঠকের ব্যাকড্রপ থেকেই স্পষ্ট হয়েছে রাজনৈতিক বার্তা। সেখানে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। পরিবর্তে জায়গা পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী এবং ড. বি.আর. আম্বেদকরের প্রতিকৃতি।

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করার প্রস্তাব আনতে পারে। পাশাপাশি নতুন কর্মসমিতি গঠন, রাজ্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, গুলাম রব্বানি কিংবা অরূপ বিশ্বাসের মতো নেতাদের নামও নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় দেখা যেতে পারে। 

ফলে রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই কৌতূহল, ক্ষমতা হারানোর পর এবার দলের প্রতীক এবং তহবিল কি অক্ষুন্ন রাখতে পারবেন নেত্রী?