সরকারি চাকরির আশায় বছরের পর বছর অপেক্ষা নয়, এবার যুবকদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে ব্যবসা শুরু করার মূলধন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রস্তাবিত ‘বাংলার উদ্যোগ ক্রেডিট কার্ড’ প্রকল্প ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং স্টার্ট-আপ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প আনা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারি সূত্রে এখনও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা প্রকাশ না হলেও প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে একজন যোগ্য আবেদনকারী সর্বাধিক ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। এর মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা অনুদান এবং বাকি ৫ লক্ষ টাকা সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে দেওয়া হতে পারে। ফলে নতুন ব্যবসা শুরু করা কিংবা ছোট ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বড়সড় সহায়তা মিলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন দিশা তৈরি করাই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং ‘চাকরি-দাতা’ তৈরি করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র শিল্প, পরিষেবা ক্ষেত্র, স্টার্ট-আপ, দোকান, উৎপাদন ইউনিট কিংবা স্বনিযুক্ত পেশার সঙ্গে যুক্ত যুবকদের বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি। তবে প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা, ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী যুবক-যুবতী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বা প্রকল্প রিপোর্ট জমা দিতে হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই উদ্যাম (MSME) রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
সম্ভাব্য নথিপত্রের তালিকায় আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য, বসবাসের প্রমাণপত্র, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র এবং ব্যবসার প্রকল্প রিপোর্ট থাকতে পারে।
বর্তমানে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এখনও আবেদনপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়নি এবং কোনও সরকারি পোর্টালও চালু হয়নি। প্রশাসনিক অনুমোদন, ব্যাঙ্কিং কাঠামো তৈরি এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প চালু হবে বলে জানা গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ক্ষেত্রে নতুন গতি আসতে পারে। কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বহু তরুণ-তরুণী নিজেদের উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করার সাহস পাবেন। এখন নজর সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশিকা এবং আবেদন প্রক্রিয়া কবে শুরু হয়, সেদিকেই।