কুণালের বক্তব্য শুরু হতেই ‘চোর-চোর’ স্লোগান ! বিধানসভায় তুমুল হইচই ডিম-বিক্ষোভের রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি ! স্পিকারের সঙ্গে বাগ্‌যুদ্ধে কুণাল কলকাতা: ডিম-বিক্ষোভের রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে ডিম হামলার ঘটনার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ফের বিতর্কের কেন্দ্রে তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তবে এবার রাস্তায় নয়, রাজ্যের সর্বোচ্চ আইনসভা বিধানসভাতেই তাঁকে ঘিরে তৈরি হল উত্তেজনা। প্রথমবার বিধানসভায় বক্তৃতা দিতে উঠেই বিজেপি বিধায়কদের একাংশের কাছ থেকে শুনতে হল ‘চোর-চোর’ স্লোগান। এমনকি সারদা মামলায় তাঁর জেলযাত্রার প্রসঙ্গ টেনেও কটাক্ষ করা হয় বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের অধিবেশন কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। গত ১৮ জুন রাজ্যপাল আর এন রবির ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের বাজেট অধিবেশন। সোমবার পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হওয়ার পর মঙ্গলবার রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনা শুরু হতেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে ওঠে। আর সেই উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিধানসভায় এ দিন ছিল তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বক্তৃতা। স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বক্তব্য শুরু করতেই বিজেপি বেঞ্চ থেকে প্রতিবাদ ধেয়ে আসে। অভিযোগ, কুণালকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। তাতে অবশ্য দমে যাননি তিনি। বরং পাল্টা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তবে শুধু শাসকদলের সঙ্গে সংঘাত নয়, এ দিন স্পিকার রথীন্দ্র বোসের সঙ্গেও একাধিকবার বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন কুণাল। স্পিকারের অভিযোগ ছিল, কুণাল এমন সব মন্তব্য করছেন যার অনেকটাই কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিতে হতে পারে। তিনি মূল আলোচনার বদলে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণের পথে হাঁটছেন বলেও স্পিকারের পর্যবেক্ষণ। বারবার বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ কুণাল সরাসরি স্পিকারের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আপনি কি আমাকে স্বাভাবিকভাবে বলতে দেবেন? নাকি অন্যরা যখন বলবেন তখন আমরাও একইভাবে বাধা দেব?” এরপরই তিনি বলেন, “গলার জোর শুধু আপনাদের একার নয়, আমাদেরও আছে।” পরিস্থিতি তখন ক্রমশ উত্তপ্ত। স্পিকারও কড়া সুরে জানান, “আপনি নিয়মবহির্ভূত কথা বলছেন।” কিন্তু তাতেও পিছিয়ে আসেননি কুণাল। উল্টে স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, “আপনি আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলবেন না। আপনিও তো প্রথমবার স্পিকার হয়েছেন। আর এভাবে কথা বললে আমি কি আপনাকে রসগোল্লা খাওয়াব?” স্পিকারের উদ্দেশে এমন মন্তব্যে মুহূর্তের মধ্যে হইচই পড়ে যায় বিধানসভা কক্ষে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই কুণালের নিশানায় আসেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতা তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তাঁকে ‘মেরুদণ্ডহীন’ ও ‘ব্যাকডোর থেকে উঠে আসা নেতা’ বলে কটাক্ষ করেন কুণাল। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তগুলি আদৌ এগোবে কি না। ক্ষমতা হারানোর প্রসঙ্গ টেনেও আবেগঘন সুরে কুণাল বলেন, “আমরা হয়তো ভোটে হেরেছি, কিন্তু মানুষের দেওয়া ভোটের কালি এখনও আমাদের হাত থেকে মুছে যায়নি। হেরে গিয়েও আমি অন্তত বেইমান হইনি। আমি এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছি।” কুণালের এই বিস্ফোরক ভাষণের সময় বারবার বাধা, স্লোগান, টেবিল চাপড়ানো এবং পাল্টা প্রতিবাদে মঙ্গলবারের অধিবেশন প্রায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন বিধানসভার প্রথম বাজেট অধিবেশনেই যে সংঘাতের ছবি সামনে এল, তা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতির আরও তীব্র মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।