পুজোর আগেই বাংলার ঝুলিতে দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার! 

হাওড়া-দিল্লি রেল পথে গতি ও আরামের নতুন যুগের ইঙ্গিত

 

কলকাতা: দুর্গাপুজোর আগেই বাংলার রেলযাত্রীদের জন্য আসতে পারে বড় উপহার। দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার পরিষেবা পাওয়ার পর এবার দ্বিতীয় স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেনও পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রের দাবি, হাওড়া-দিল্লি রুটে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস চালুর প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সব কিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে আসন্ন পুজোর আগেই ট্রেনটি যাত্রা শুরু করতে পারে।

 

বাংলার রেল মানচিত্রে বন্দে ভারত এখন আর নতুন নাম নয়। ইতিমধ্যেই হাওড়া-গুয়াহাটি রুটে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার পরিষেবা চালু হয়েছে। এবার দেশের অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ হাওড়া-দিল্লি করিডরে এই অত্যাধুনিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি রেল আধুনিকীকরণ কর্মসূচিরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন ট্রেনটি ১৬ কোচের হবে এবং প্রায় ৮২৩ জন যাত্রী একসঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন। দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় প্রচলিত রাজধানী বা দুরন্ত এক্সপ্রেসের বিকল্প হিসেবেই এই ট্রেনকে দেখা হচ্ছে। ট্রেনে আধুনিক স্লিপার বার্থ, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ প্রযুক্তি, জিপিএস-ভিত্তিক তথ্য পরিষেবা এবং বিমান-মানের যাত্রী সুবিধা থাকবে বলে জানা গিয়েছে।

 

এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও একটি বড় পরিকল্পনা। দিল্লি-হাওড়া রুটে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়ন চলছে দীর্ঘদিন ধরে। রেলপথ সংস্কার, সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং ট্র্যাক আপগ্রেডের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে বন্দে ভারত স্লিপার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও কার্যত তৈরি হয়ে গিয়েছে।

 

তবে এই ঘোষণার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার পরিষেবা বাংলাকে দেওয়া হয়েছিল। এবার নির্বাচনের পর দ্বিতীয় স্লিপার বন্দে ভারত চালুর উদ্যোগকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বাংলার প্রতি বিশেষ বার্তা হিসেবেই দেখছেন অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক। যদিও রেলমন্ত্রক আনুষ্ঠানিকভাবে একে যাত্রী পরিষেবা সম্প্রসারণের অংশ বলেই ব্যাখ্যা করছে।

 

শুধু বাংলা নয়, দেশজুড়ে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটেও বন্দে ভারত স্লিপার পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দিল্লি-মুম্বই, দিল্লি-চেন্নাই, দিল্লি-আমেদাবাদ এবং মুম্বই-বেঙ্গালুরু রুটও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

 

সব মিলিয়ে, পুজোর মরসুমে যদি সত্যিই হাওড়া-দিল্লি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন হয়, তাহলে তা শুধু বাংলার রেলযাত্রীদের জন্য নয়, পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে উঠবে। দ্রুতগতি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আরামদায়ক রাত্রিযাত্রার সমন্বয়ে ভারতীয় রেলের নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী হতে পারে বাংলা।