‘ধরো আর বিএসএফ-কে দাও, নো জেল!’ বিধানসভায় শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি

 

অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে জিরো টলারেন্স ! 'যারা পালাতে চান, বেড়া তৈরির আগে পালিয়ে যান'

 

কলকাতা: বিধানসভা থেকেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কার্যত যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা: বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের জন্য বাংলায় কোনও জায়গা নেই। ‘‘ধরো আর বিএসএফ-কে দাও। নো জেল’’, রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে এই ভাষাতেই প্রশাসনের নতুন নীতি ব্যাখ্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রী ।

 

সিএএ, সীমান্ত সুরক্ষা এবং বেআইনি অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রায় পুরো বক্তৃতাজুড়েই আক্রমণাত্মক ছিলেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আপনাদের কেউ কেউ বলছেন, ওরা ভারতীয়। একদম ক্রিস্টাল ক্লিয়ার, তারা ভারতীয় নয়, তারা অনুপ্রবেশকারী।’’

 

এরপরই বিধানসভায় চাঞ্চল্য ফেলে দেওয়া পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘‘সিএএ-র আওতায় যারা আসেননি এবং বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকেছেন, তাদের মধ্যে ১০ হাজার জনকে ইতিমধ্যেই বের করেছি। আমার কাছে ১২টা হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১,৮০০ অপেক্ষা করছে। ডেলি ওপারে পাঠাচ্ছি। থাকবে না কেউ।’’

 

শুধু অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোই নয়, তাঁদের জন্য রাজ্যের অর্থ ব্যয়ের বিরুদ্ধেও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বাংলার করদাতাদের টাকা বাংলার মানুষের জন্য। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘আমাদের নাগরিকদের টাকায় অন্নপূর্ণা যোজনা হবে, বার্ধক্য ভাতা বাড়বে, বিধবা ভাতা বাড়বে, বেকার যুবক-যুবতী চাকরি পাবে, স্কুল-কলেজের উন্নয়ন হবে, পানীয় জলের প্রকল্প হবে। কিন্তু বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের খাওয়ানো, পোশাক দেওয়া, ওষুধ দেওয়া হবে না।’’

 

এরপরই আসে তাঁর বক্তৃতার সবচেয়ে আলোচিত অংশ। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা ভারত সরকারের আইন কার্যকর করেছি। ধরো আর বিএসএফ-কে দাও। নো জেল।’’ অর্থাৎ বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের দীর্ঘদিন জেলে রেখে সরকারি অর্থ ব্যয়ের বদলে দ্রুত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার নীতিতেই এগোচ্ছে সরকার।

 

তবে একই সঙ্গে বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের আশ্বস্ত করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘কোনও ভারতীয়র ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তিনি যে ধর্মের হোন, যে সম্প্রদায়ের হোন, যে দলেরই হোন, যদি ভারতীয় হন, তাঁর কিছু হবে না। কিন্তু ভোটব্যাঙ্কের জন্য অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না।’’

 

শুধু অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান নয়, সীমান্ত সুরক্ষার অবকাঠামো নিয়েও এ দিন বিস্তারিত তথ্য দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই বিএসএফ-কে ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর করেছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে কোচবিহারে ২২.৯৫ একর, জলপাইগুড়িতে ৩৫.১৬৫ একর এবং দার্জিলিংয়ে ৮.৮১৫ একর জমি দেওয়া হয়েছে।

 

পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কেন বিএসএফ-কে জমি দেওয়া হয়নি? কেন সীমান্ত সুরক্ষার কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল?’’ তাঁর অভিযোগ, অতীতে বিধানসভা থেকেই বিএসএফের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনা হয়েছিল এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল।

 

বর্তমান সরকারের অবস্থান যে সম্পূর্ণ উল্টো, তা স্পষ্ট করে দিয়ে শুভেন্দু জানান, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে। সেই প্রসঙ্গেই কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যারা পালাতে চান, বেড়া তৈরির আগে পালিয়ে যান। অনেকেই ইতিমধ্যে চলে গিয়েছে। বাকিদেরও বলুন দ্রুত চলে যেতে।’’

 

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, অনুপ্রবেশ, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সিএএ বাস্তবায়নের প্রশ্নে সরকার আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয়। বরং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকেই সামনে রেখে আগামী দিনে আরও কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।