উজবেকিস্তান নয়, লড়াইটা নিজের সঙ্গে! বিশ্বকাপে নিজের প্রমাণ দিতে পারবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো?
পর্তুগাল ফুটবলের ইতিহাসে বহু তারকা এসেছেন-গিয়েছেন। কিন্তু গত দেড় দশকে দেশের ফুটবল পরিচয়ের সঙ্গে যে নামটি সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে গিয়েছে, তিনি ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। জাতীয় দলের জার্সিতে অসংখ্য সাফল্য, রেকর্ড এবং স্মরণীয় মুহূর্তের নায়ক তিনি। তবে এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগাল শিবিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুও সেই রোনাল্ডো। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ম্যাচজুড়ে কার্যত নিষ্প্রভ ছিলেন পর্তুগাল অধিনায়ক। পরিসংখ্যান বলছে, পুরো ম্যাচে ২৫ বারেরও কম বল স্পর্শ করেছেন তিনি, যা মাঠে থাকা পর্তুগিজ ফুটবলারদের মধ্যে সর্বনিম্ন। এমনকি পরিবর্ত হিসেবে নেমে আসা ফ্রান্সিসকো কনসেসাওও বলের সংস্পর্শে এসেছেন তাঁর চেয়ে বেশি বার।
শুধু তাই নয়, আক্রমণভাগে প্রত্যাশিত প্রভাবও ফেলতে পারেননি রোনাল্ডো। বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্মক পরিস্থিতিতে তাঁর উপস্থিতি দলের ছন্দ নষ্ট করেছে বলেও সমালোচকদের দাবি। অন্যদিকে, তাঁর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি রয়েছেন দুরন্ত ফর্মে। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে আলোড়ন ফেলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ফলে তুলনাটা আরও বেশি করে সামনে চলে আসছে। এই পরিস্থিতিতে পর্তুগালের ফুটবল মহলে জোরালো হয়েছে একটি দাবি—উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে রোনাল্ডোকে প্রথম একাদশের বাইরে রাখা হোক। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তৎকালীন কোচ ফের্নান্দো স্যান্তোস একবার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যদিও সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের শেষ হয়নি আজও।
তবে বর্তমান কোচ রবার্তো মার্টিনেজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি সেই পথে হাঁটতে রাজি নন। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে রোনাল্ডোকে নিয়েই দল নামানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, অধিনায়কের সমালোচকদের ফুটবল জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পর্তুগাল কোচ। এরই মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তরুণ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস। কঙ্গো ম্যাচের পর তিনি বলেছিলেন, “রোনাল্ডোও দলের একজন সাধারণ সদস্য।” এই মন্তব্য ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, জাতীয় দলের ভিতরেও কি আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছেন না পর্তুগিজ মহাতারকা? যদিও দলের অভিজ্ঞ সদস্যদের একাংশ প্রকাশ্যে রোনাল্ডোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের মতে, বড় ম্যাচে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার ক্ষমতা এখনও রয়েছে অধিনায়কের।
এবার সেই প্রমাণ দেওয়ার মঞ্চ উজবেকিস্তান। মধ্য এশিয়ার দেশটি এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলছে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে তারা কলম্বিয়ার কাছে পরাজিত হয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাই ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ পাচ্ছে পর্তুগাল। চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না ডিফেন্ডার টমাস আরাউহো। তাঁর জায়গায় পরিবর্তন আসতে পারে রক্ষণভাগে। ডান প্রান্তে শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে ফ্রান্সিসকো কনসেসাওকে। তবে দলগত কৌশল বা প্রথম একাদশ নিয়ে যত আলোচনা থাকুক না কেন, ম্যাচের আগে সব আলো এক ব্যক্তিকেই ঘিরে। হিউস্টনের মাঠে বুধবার নজর থাকবে এক জনের উপরই। সমালোচনার জবাব দিতে, নিজের ছন্দে ফিরতে এবং বিশ্বকাপে নিজের ছাপ রেখে যেতে মাঠে নামবেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান হলেও, আসল লড়াইটা তাঁর নিজের সঙ্গেই।