ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ট্রাম্পের! ভারতের জন্য কি সুখবর? কমবে জ্বালানির দাম?

 

যুদ্ধের আগুন নিভিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পায়প্রা ওড়াতে ইরানের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেছে আমেরিকা। তবে সেই ইতিবাচক বার্তার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এই টানাপোড়েনের আবহেই ইরানের উপর চাপানো তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে—এর প্রভাব কি ভারতের উপর পড়বে? কমতে পারে কি জ্বালানির দাম?

 

দীর্ঘদিন ধরে ইরানের উপর একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছিল আমেরিকা। তার মধ্যে অন্যতম ছিল তেল রপ্তানির উপর কড়াকড়ি। সোমবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ওয়াশিংটন ৬০ দিনের জন্য একটি বিশেষ লাইসেন্স জারি করেছে। মার্কিন অর্থ দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে ইরানকে।

 

এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, দেশের মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির উপর।

 

গত কয়েক বছরে ভারতের তেল আমদানির উৎসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর কম দামে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনতে শুরু করে ভারত। বর্তমানে ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশই আসে রাশিয়া থেকে। এছাড়া সৌদি আরব, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীও ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যদি আবার আন্তর্জাতিক তেল বাজারে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসে, তাহলে ভারতের জন্য আরও একটি বড় সরবরাহের উৎস তৈরি হবে। এতে তেল আমদানির ক্ষেত্র আরও বৈচিত্র্যময় হবে এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের উপর নির্ভরতা কিছুটা কমবে। পাশাপাশি বাজারে তেলের জোগান বাড়লে আন্তর্জাতিক দামের উপরও চাপ কমতে পারে।

 

একসময় ভারতের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল ইরান। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে নয়াদিল্লি তেহরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ভারত কি আবার ইরানি তেল কেনা শুরু করবে?

 

সরকারি সূত্রের খবর, আপাতত সেই সম্ভাবনা খুব একটা উজ্জ্বল নয়। কারণ, আমেরিকার দেওয়া ছাড় মাত্র ৬০ দিনের জন্য কার্যকর। অন্যদিকে তেল শোধনাগার সংস্থাগুলি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তার ভিত্তিতে চুক্তি করতে চায়। ইরানের ক্ষেত্রে সেই নিশ্চয়তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই অবিলম্বে ইরান থেকে তেল আমদানি শুরুর সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।