মালদহের ঐতিহাসিক গুরুদুয়ারায় রাজ্যপাল আর এন রবি
সনাতন ধর্ম ও মানবিকতার রক্ষার্থে শিখদের নবম ধর্মগুরু তেগ বাহাদুরের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের সাড়ে তিনশো বছর পূর্তি উদযাপিত হলো মালদহ জেলায়। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীন পূর্বাঞ্চল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। আজ মালদহের কালাচাঁদ হাইস্কুল সংলগ্ন গুরু নানক প্লে গ্রাউন্ডে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি।
ইতিহাসের পাতায় মালদহ জেলার গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ এই মাটি একদা গুরু নানক এবং গুরু তেগ বাহাদুরের পদস্পর্শে ধন্য হয়েছিল। সেই পুণ্যস্মৃতিকে মাথায় রেখেই আজ বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে দিনটি পালন করা হয়। উল্লেখ্য, সাড়ে তিনশো বছর আগে ঔরঙ্গজেবের শাসনকালে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মানবিক অধিকার রক্ষার্থে নিজের জীবন বলিদান দিয়েছিলেন গুরু তেগ বাহাদুর। তাঁর সেই মহান আদর্শ ও আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাতেই কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে দেশজুড়ে যে ৬০টি ঐতিহাসিক স্থানে এই আত্মত্যাগ দিবস বা শহীদ দিবস পালিত হচ্ছে, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে একমাত্র মালদহ জেলাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁর বক্তব্যে দেশের অখণ্ডতা ও সর্বধর্ম সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দেন। তাঁর কথায় বারবার উঠে আসে সম্প্রীতির বার্তা। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান যুগের নতুন প্রজন্মের কাছে গুরু তেগ বাহাদুরের বীরত্ব, ত্যাগ এবং ভারতের সংস্কৃতি রক্ষায় তাঁর অনবদ্য ভূমিকার কথা পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁদের সচেতন করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিশিষ্ট গুণীজন, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
মাঠের মূল অনুষ্ঠান শেষ করার পর রাজ্যপাল আর এন রবি সরাসরি চলে যান পুরাতন মালদহে অবস্থিত ঐতিহাসিক গুরুদুয়ারায়। এই স্থানটি গুরু নানক এবং গুরু তেগ বাহাদুরের স্মৃতি বিজড়িত এক অত্যন্ত পবিত্র ধর্মস্থল। রাজ্যপাল সেখানে বেশ কিছু সময় কাটান, প্রার্থনা করেন এবং এই ঐতিহাসিক স্থলের রক্ষণাবেক্ষণ ও ঐতিহ্য নিয়ে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেন।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে,
মালদহের বুকে কেন্দ্র সরকারের এই স্তরের একটি বড় মাপের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং সেখানে স্বয়ং রাজ্যপালের উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তরবঙ্গের এই প্রাচীন জেলার ঐতিহাসিক গুরুত্বকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ একটি বড় ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।