পাহাড় কেটে ভয়ঙ্কর অস্ত্র বানাত হেজবুল্লা! গোপন সুড়ঙ্গের দরজা খুলতেই চমকে উঠল ইজরায়েলি সেনা

 

হেজবুল্লার গোপন ঘাঁটিতে হানা দিয়েই চমকে উঠল ইজরায়েলি সেনা। দক্ষিণ লেবাননের পাহাড়ের গভীরে লুকিয়ে ছিল অত্যাধুনিক ড্রোন কারখানা এবং সামরিক ঘাঁটি। দীর্ঘদিন ধরে সেখান থেকেই ড্রোন তৈরি ও পরিচালনা করে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হত বলে দাবি করেছে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী। সাম্প্রতিক এক সামরিক অভিযানে এই গোপন ঘাঁটির সন্ধান পাওয়ার পর সেটিকে হেজবোল্লার সামরিক পরিকাঠামোর উপর বড়সড় আঘাত হিসেবে দেখছে তেল আভিভ।

 

ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চালানোর সময় ইজরায়েল সীমান্তের কাছাকাছি একটি পাহাড়ের ভিতরে ভূগর্ভস্থ ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রের খোঁজ মেলে। ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, এই ঘাঁটিতে শুধু ড্রোনের যন্ত্রাংশ সংযোজনই নয়, ইজরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় হামলার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিও নেওয়া হত। আইডিএফের দাবি, গত এক দশক ধরে ইরানের আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহায়তায় এই ঘাঁটি গড়ে তোলা হয়েছিল। সীমান্ত থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে মাজদাল জুন গ্রামের কাছে অবস্থিত এই ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিকে হেজবোল্লার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান চালানোর সময় এই ঘাঁটির দখল নেয় ইজরায়েলি বাহিনী। সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পাহাড়ের ভিতরে কয়েকশো মিটার বিস্তৃত এই সুড়ঙ্গঘাঁটি মাটির প্রায় ২৯ মিটার গভীরে নির্মিত। বিস্ফোরণ ও হামলা থেকে রক্ষা করতে বিশাল ইস্পাতের বিস্ফোরণরোধী দরজা দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছিল পুরো স্থাপনাটি। ইজরায়েলের দাবি, এর আগে হেজবোল্লার যে সমস্ত ঘাঁটির সন্ধান মিলেছে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর। ঘাঁটির ভিতরে একাধিক কক্ষের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যেখানে চোরাপথে আনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ড্রোন তৈরি করা হচ্ছিল। তদন্তকারীদের মতে, এটি ছিল পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন ও পরিচালনা কেন্দ্র।

 

আইডিএফ জানিয়েছে, ঘাঁটি থেকে ৩০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম ওয়ারহেড-যুক্ত ৫০টি ড্রোন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ড্রোনগুলির নকশা ও প্রযুক্তি অতীতে ইজরায়েলের উপর হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের সঙ্গে মিল রয়েছে বলে দাবি সেনাবাহিনীর। এই ড্রোনগুলির পাল্লা এতটাই বেশি যে ইজরায়েলের প্রায় যে কোনও অঞ্চলে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়া পাহাড়ের দক্ষিণ দিকে ড্রোন উৎক্ষেপণের জন্য বিশেষ একটি সুড়ঙ্গেরও সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেই সুড়ঙ্গ খুলে ড্রোন আকাশে ওড়ানো হত বলে জানা গিয়েছে। সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে রেলপথের সঙ্গে সংযুক্ত চারটি পৃথক বহির্গমন পথ রয়েছে, যেগুলিও বিস্ফোরণরোধী দরজা দিয়ে সুরক্ষিত ছিল। সব মিলিয়ে ঘাঁটির ভিতর থেকে প্রায় ৮ টন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইজরায়েলি সেনা।